আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার তৃতীয় দিনের মাথায় সাংবাদিক বৈঠক করলেন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু। শনিবার দুপুরে নাইডু বলেন, ‘এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে ওই কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বর্তমানে দেশে উড়ান সংক্রান্ত যে নির্দিষ্ট বিধি বা ‘এসওপি’ রয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কী কী বিধি বর্তমানে মানা হয়ে থাকে, তা পর্যালোচনা করে দেখবেন কমিটির সদস্যেরা।
রামমোহন নাইডু বলেন, ‘উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্র সচিব। কমিটিতে থাকবেন বায়ুসেনার ডিজি, সিভিল অ্যাভিয়েশনের ডিজি, আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার, বিদেশ মন্ত্রকের সেক্রেটারি, ফরেনসিক বিভাগের আধিকারিক, আইবি-র স্পেশাল ডিরেক্টর এবং গুজরাট সরকারের কয়েকজন কর্তা। এই কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিমান রক্ষণাবেক্ষণের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং সিস্টেম বদলের প্রয়োজন আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। বিমান দুর্ঘটনার নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি না কি পাইলটদের ভুল, সব কিছু খতিয়ে দেখা হবে।’
Advertisement
কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা ‘এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ (এএআইবি) বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এর পাশাপাশি অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ) পৃথক তদন্ত করছে। ২০১২ সালে এএআইবি গঠিত হয় দেশে। তার পর থেকে দেশে বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত তারাই করে। এর আগে বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত করত ডিজিসিএ। এদিকে বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭৯ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু।
Advertisement
মন্ত্রী বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল ৫টা নাগাদ বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হয়। এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বক্স ডিকোড করছে। কী বেরিয়ে আসে, তা জানার জন্য আমরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। দুর্ঘটনা নিয়ে নানা রকম তত্ত্ব উঠে আসছে। সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার দুপুরে আহমেদাবাদ বিমানবন্দর ছেড়ে ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমানটি নিকটবর্তী বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরেই তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ হয় এবং বিমানে আগুন ধরে যায়। বিমানে থাকা ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে ঘটনার দিনই ২৪১ জনের মৃত্যু হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমানে ২৪২ জনের মধ্যে যাত্রী ছিলেন ২৩০ জন। বাকিরা পাইলট এবং বিমানের ক্রু সদস্য। ওই বিমানে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাত জন পর্তুগিজ এবং এক জন কানাডিয়ান নাগরিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে জীবিত রয়েছেন কেবল এক জন। তাঁর নাম বিশ্বাসকুমার রমেশ। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক।
Advertisement



