• facebook
  • twitter
Sunday, 1 February, 2026

আলোচনায় বিরতি ঘোষণা কেডিএ’র, সোনম ওয়াংচুকের মুক্তির দাবি

সংগঠনের চেয়ারম্যান থুপস্তান চিউয়াং বলেন, ‘আমরা সর্বসম্মতভাবে স্থির করেছি, বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত না হলে কোনও আলোচনাই সম্ভব নয়।’

সোনম ওয়াংচুক। প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

লাদাখে রক্তপাতের পর উত্তেজনা কমার বদলে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সোমবার কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় না বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল লেহ এপেক্স বডি (এএবিএল)। তার একদিন পরই মঙ্গলবার একই পথে হাঁটল কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শান্তিপ্রিয় পরিবেশ ফিরিয়ে আনা না হলে এবং পরিবেশ আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুককে মুক্তি না দিলে তারা কেন্দ্রের সঙ্গে আর কোনও আলোচনায় অংশ নেবে না।

কেডিএ-র সহ-সভাপতি আসগর কারবালাই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘লেহ-তে গুলি চালনার ঘটনায় যে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন, তার সুষ্ঠু বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া জরুরি। পাশাপাশি যাঁরা এই ঘটনার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদেরও মুক্তি দিতে হবে।’

Advertisement

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, কেন্দ্র সবসময়ই আলোচনায় প্রস্তুত। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘লাদাখ বিষয়ক এএবিএল এবং কেডিএর সঙ্গে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বহু ইতিবাচক ফল মিলেছে। তফসিলি উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ বৃদ্ধি, মহিলা প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় ভাষার সুরক্ষা এবং ১,৮০০টি সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু— এসবই আলোচনার সাফল্য। ভবিষ্যতেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

Advertisement

এর আগে সোমবার লেহ এপেক্স বডি কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছিল ‘ভয়, দুঃখ ও ক্ষোভে আচ্ছন্ন’ পরিবেশ দূর করতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। সংগঠনের চেয়ারম্যান থুপস্তান চিউয়াং বলেন, ‘আমরা সর্বসম্মতভাবে স্থির করেছি, বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত না হলে কোনও আলোচনাই সম্ভব নয়।’

উল্লেখ্য, এএবিএল এবং কেডিএ বহুদিন ধরেই লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর লেহ-তে এমনই এক বিক্ষোভ চলাকালীন ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ বাঁধে। ক্ষুব্ধ জনতার পাথর ছোঁড়া, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি স্থানীয় বিজেপি কার্যালয় ও এএবিএল-এর অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি সিআরপিএফের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে ভেতরে থাকা জওয়ানদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সেই সময় অনশনরত সোনম ওয়াংচুক আন্দোলন প্রত্যাহারের ডাক দেন এবং শান্তির আহ্বান জানান। কিন্তু পরে তাঁকেই অভিযুক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর সংস্থা ‘স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ’ (সেকমল)-এর বিদেশি অনুদান নেওয়ার লাইসেন্সও বাতিল করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

তবে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধানসূত্র বের না হলে লাদাখে অস্থিরতা আরও ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে।

Advertisement