• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 14 June, 2026

তৃণমূলকে একক রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখা হোক, আর্জি অভিষেকের

স্পিকারকে চিঠি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের আলাদা গোষ্ঠী তৈরি হলে তা অসাংবিধানিক ও বেআইনি

দিল্লিতে চলছে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের বৈঠক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে। প্রবল জল্পনা, এই বৈঠকের পরেই আলাদা ব্লক গড়ার জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সই করে চিঠি দেবেন বিদ্রোহী তৃণমূলীরা।  এরই মাঝে স্পিকারকে চিঠি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, চিঠিতে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের কোন বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে যেন স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। আজ রবিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে অভিষেকের চিঠি নিয়ে হাজির হন সাংসদ কীর্তি আজাদ, তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষও। সাংবাদিকদের সামনে তাঁরা জানান, তৃণমূলের আলাদা গোষ্ঠী তৈরি হলে তা অসাংবিধানিক ও বেআইনি হবে। কিন্তু স্পিকার মান্যতা দিলে আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখেন তাঁরা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়েছে, তৃণমূলের বেশ কিছু সাংসদ নিজেদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে আবেদন করতে পারেন। তা যাতে গ্রহণ না করা হয় সেই আবেদন করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, লোকসভায় দলের নেতা ও হুইপ কেবলমাত্র দলের সাংগঠনিক অনুমোদনেই নিযুক্ত করা হয়ে থাকে। সাংসদেরা আলাদা গোষ্ঠী করে পৃথক দলের দাবি করতে পারেন না। চিঠিতে অভিষেক ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল মামলায় শীর্ষ আদালতের রায় তুলে ধরেছেন।

সাগরিকা ঘোষ জানিয়েছেন, ‘আমরা লোকসভার স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছি, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অবিভাজ্য দল। আপনারা লোকসভার ভেতরে আলাদা গোষ্ঠী করতে পারেন না। এটা সংবিধান বিরোধী।’ অন্যদিকে কীর্তি আজাদ জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, দশম তফসিলের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদেও উল্লেখ করা হয়েছে দলের মধ্যে কোনো ভাঙন হতে পারে না। মহারাষ্ট্রে যা ঘটেছিল তা ভুল ছিল। আমরা স্পিকারের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছি।’ তবে তৃণমূল ও বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের মধ্যের এই দ্বন্দ্ব যে বাংলা ছাড়িয়ে রাজধানী দিল্লিতেও প্রবেশ করেছে তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। এদিকে চিঠি চালাচালির মধ্যেই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা যোগ দিয়ে দিলেন ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল এনসিপিতে। যা কার্যত তোলপাড় ফেলে দিল বঙ্গ রাজনীতিতে। এখন দেখার বাংলার বিরোধী নেতার আসনে কে আসেন?