কদিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জেরে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে অমরনাথ যাত্রা স্থগিত করল জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন। রবিবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পেহেলগাঁও এবং বালতাল দুই পথ থেকেই যাত্রা বন্ধ থাকবে। সুতরাং রবিবার থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো অমরনাথ এবং বৈষ্ণোদেবী যাত্রা। কাশ্মীর ডিভিশনাল কমিশনার অংশুল গর্গ এই বিষয়ে জানান, পহেলগাঁও এবং বালতাল— দুই রুট দিয়েই অমরনাথ যাত্রা আপাতত বন্ধ থাকবে। কাশ্মীরের বালতাল এবং নুয়ান বেস ক্যাম্প থেকে পুণ্যার্থীদের আর এগোতে দেওয়া হচ্ছে না। জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় রাতভর নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে হড়পা বান দেখা দিয়েছে। সেখানে নদীগুলির জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। আর একাধিক এলাকা জলের তলায় রয়েছে।
প্রশাসনের কর্তারা জানান, কাশ্মীরের বালতাল এবং নুনওয়ান-চন্দনওয়ারি বেস ক্যাম্প ও জম্মুর ভগবতী নগর যাত্রীনিবাস থেকে আপাতত কোনও তীর্থযাত্রীকে অমরনাথ যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না। আবহাওয়া দপ্তর প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ায় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই ১৯ জুলাই থেকে অমরনাথ যাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি এবং যাত্রাপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই সবদিক পর্যালোচনা করে যাত্রা আবার শুরুর বিষয়ে ঘোষণা করা হবে। সরকারি সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৭৬ হাজারেরও বেশি পুণ্যার্থী অমরনাথ দর্শন করেছেন। তাই পুণ্যার্থীদের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত যাত্রা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর ১৯ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
#WATCH | Rajouri, J&K: Continous heavy rainfall triggerd flash floods in Rajouri district. Floodwaters from the Dharhali River inundated the New Bus Stand area at Bela, washing away several parked vehicles. The district administration has issued a high alert, urging residents to… pic.twitter.com/llrMvAGEZW
— ANI (@ANI) July 19, 2026
সারারাত মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে সেই বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বানভাসী রবিবার জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি এবং পুঞ্চ জেলাজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দশজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আর ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধস নেমেছে দুটি জেলায়। বহু বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। জলের স্রোত এতটাই যে, নিচু এলাকাগুলি ডুবে যাওয়ায় বহু বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই ২৩ জুলাই পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাজৌরি জেলায় টানা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। যা রাতভর আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রবিবার জেলার একাধিক নদী বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
তাছাড়া প্রশাসন সূত্রে খবর, যে দশজন মারা গিয়েছেন তাঁরা হলেন-নূর সফিয়া (৫৯), সাজাদ আহমেদ (১৬), হকনওয়াজ আহমেদ (১০), খালেদা কৌসর (২৫), সোফিয়ান (২), বানো বি (৬০) এবং মহম্মদ আক্রমণ (৭)। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। বিপর্যয় মোকাবিলা দল দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে। রবিবার রাজৌরির নানা অংশে হড়পা বান দেখা দিয়েছে। রাজৌরির দরহালি, খাণ্ডলি, সুকতো এবং জামোলা-সহ সমস্ত একাধিক নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। দরহালি নদীর উপর থাকা বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। যার জেরে হুড়মুড়িয়ে জল ঢুকতে শুরু করেছে গ্রামে। রাজৌরির আবদুল্লা ব্রিজের কাছের একটি বস্তি জলের তলায় চলে গিয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। রাজৌরির বিধায়ক ইফতিখার আহমেদ জম্মুতে দলীয় কর্মসূচি বাতিল করে রাজৌরিতে ফিরে এসেছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন এবং দুর্গত পরিবারগুলিকে দ্রুত সরকারি সাহায্য ও পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।




