• facebook
  • twitter
Saturday, 30 May, 2026

অন্ত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি, গবেষণায় নয়া তথ্য

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটি এবং ফ্লিন্ডার্স মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা। এই গবেষণার জন্য ৮৪০০-রও বেশি কোলোনোস্কোপির রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়।

প্রতীকী চিত্র

অন্ত্রের ক্যানসার বা কোলোরেক্টাল ক্যানসার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের অন্যতম বড় কারণ। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষকদের দাবি, অন্ত্রে তৈরি হওয়া দুই বিশেষ ধরনের পলিপ ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

পলিপ হল অন্ত্রের ভিতরের আস্তরণে তৈরি হওয়া ছোট মাংসল বৃদ্ধি। প্রথমদিকে এগুলি সাধারণত ক্ষতিকর মনে না হলেও, সময়ের সঙ্গে কিছু পলিপ ক্যানসারে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে ‘অ্যাডেনোমা’ এবং ‘সেরেটেড’ নামের দুই ধরনের পলিপকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটি এবং ফ্লিন্ডার্স মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা। এই গবেষণার জন্য ৮৪০০-রও বেশি কোলোনোস্কোপির রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়। তাতেই উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য— যাঁদের অন্ত্রে সেরেটেড পলিপ পাওয়া গিয়েছে, তাঁদের প্রায় অর্ধেকের শরীরে একই সঙ্গে অ্যাডেনোমা পলিপও ছিল।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ধরনের পলিপ একসঙ্গে থাকলে অন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এত ঘন ঘন এই বিপজ্জনক সংমিশ্রণ দেখা যাবে বলে আগে ধারণা করা হয়নি। ফলে রোগ নির্ণয় এবং পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নাল ‘ক্লিনিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি’-তে। গবেষকদের বক্তব্য, কোলোরেক্টাল ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা। চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিয়মিত কোলোনোস্কোপি করালে এই ধরনের পলিপ অনেক আগেই ধরা সম্ভব। সময়মতো পলিপ অপসারণ করলে ভবিষ্যতে ক্যানসারে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।

Advertisement