কিডনির অসুখ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি আরও বিপজ্জনক এই কারণে যে, কিডনির অসুখে প্রথমে কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। কিডনির জটিল রোগ বা কিডনি বিকল হয়ে গেলে তাকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। তখন প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। কিডনি প্রতিস্থাপনও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি অস্ত্রোপচার। এক্ষেত্রে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে, এমন নিশয়তাও দেওয়া যায় না। সফল না হলে প্রাণসংশয়ও হতে পারে। কিডনির রোগের নিরাময়ের পদ্ধতি নিয়ে সারা বিশ্ব জুড়ে গবেষণা চলছে। সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নতুন এক থেরাপি নিয়ে গবেষণা চলছে ভারত ও আমেরিকায়। সেটি হল ‘ডিজিটাল-টুইন মডেল’। এই নতুন প্রচেষ্টায় কম্পিউটার অ্যালগরিদ্মকে কাজে লাগিয়ে কিডনির জটিল থেকে জটিলতর রোগকে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কী এই ডিজিটাল-টুইন মডেল ? আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া ও ভারতের দিল্লি আইআইটি এবং দিল্লি এমস-এর চিকিৎসকেরা এই মডেলটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে এমন এক ‘ভার্চুয়াল মডেল’ তৈরি করা হয়েছে, যা অবিকল আসল কিডনির মতো। রোগীর নানারকম স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে, সেই রিপোর্ট নিয়ে এবং রোগীর শরীরের গঠন, বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা দেখে সেই ডেটা থেকেই তৈরি করা হয়েছে আসল কিডনির মতোই একটি ডিজিটাল মডেল। একেই বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল টুইন’। এটি কেবলমাত্র ত্রি-মাত্রিক ছবি নয়, আসল কিডনির মতোই সেটি কাজ করবে। রোগীর রক্তচাপের হেরফের হলে, শরীরে হরমোনের বদল হলে বা ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় আসল কিডনির উপর কী কী প্রভাব পড়তে পারে তার পূর্বাভাসও দিতে পারবে এই ডিজিটাল কিডনি।
Advertisement
এককথায় বলা যায়, রোগীর আসল কিডনিরই ডিজিটাল রূপ হল এই টুইন মডেল, যা পরিচালিত হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বারা। চিকিৎসকেরা রোগীকে সরাসরি ওষুধ না দিয়ে ওই ডিজিটাল কিডনির উপর তা আগে প্রয়োগ করবেন। যে রোগীর কিডনি প্রায় অকেজো হতে বসেছে বা ক্রনিক কিডনির রোগ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাঁর শরীরে ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি কী ভাবে কাজ করবে তারই পরীক্ষা করা হবে ডিজিটাল কিডনির উপরে। চিকিৎসকেরা দেখবেন, ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের পদ্ধতিতে ভার্চুয়াল কিডনির ক্ষতি হচ্ছে কি না। যদি ফলাফল ভাল আসে, তবেই তা রোগীর উপর প্রয়োগ করা হবে।
Advertisement
এতে প্রাণহানির ঝুঁকিও কমবে। এছাড়া কিডনি বিকল হতে শুরু করলে প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি থাকে না। সেক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ডিজিটাল মডেলে তার প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে কী কী জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা আছে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা আগে থেকেই সাবধান হয়ে যেতে পারবেন।
অনেক ক্ষেত্রে আবার ওষুধ সকলের শরীরে সমানভাবে কাজ করে না। ‘ডিজিটাল টুইন মডেল’ প্রত্যেক রোগীর জন্য আলাদা হবে। সেই রোগীর শারীরিক অবস্থা থেকে তথ্য নিয়েই ডিজিটাল কিডনি তৈরি করা হবে। কাজেই, কোন ওষুধ কার শরীরে ভাল কাজ করছে তার পরীক্ষা ডিজিটাল কিডনির উপরেই করা সম্ভব হবে। ভুল ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হবে।
Advertisement



