• facebook
  • twitter
Thursday, 30 April, 2026

নবজাতকের জন্ডিস: সাধারণ হলেও অবহেলা নয়, পরামর্শ চিকিৎসকদের

শিশুর অতিরিক্ত ঘুম, খেতে অনীহা, ওজন না বাড়া বা শরীরের বিভিন্ন অংশে হলুদ রং ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

নবজাতকের ত্বকে হালকা হলুদ আভা দেখা দেওয়া নতুন বাবা-মায়েদের কাছে খুবই পরিচিত একটি বিষয়। চিকিৎসকদের মতে, নবজাতকের জন্ডিস অত্যন্ত সাধারণ হলেও এর পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ এবং সঠিক সময়ে নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। কারণ, প্রাথমিকভাবে সাধারণ মনে হলেও অবহেলা করলে এটি গুরুতর সমস্যার রূপ নিতে পারে।

জন্ডিসের মূল কারণ হল বিলিরুবিন নামের একটি পদার্থ, যা রক্তের লোহিত কণিকা ভাঙার ফলে তৈরি হয়। সাধারণ অবস্থায় লিভার এই বিলিরুবিনকে প্রক্রিয়াজাত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু নবজাতকের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় রক্তে বিলিরুবিন জমে গিয়ে জন্ডিস দেখা দেয়।

Advertisement

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৬০ শতাংশ পূর্ণ-মেয়াদি এবং ৮০ শতাংশ প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্ডিস হতে পারে। এর একটি বড় কারণ হল নবজাতকের শরীরে লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ বেশি থাকা এবং জন্মের পর সেগুলি দ্রুত ভাঙা। পাশাপাশি শিশুর লিভার তখনও সম্পূর্ণ পরিপক্ব হয় না, ফলে বিলিরুবিন দ্রুত বের করে দিতে পারে না। এছাড়া মাতৃগর্ভে থাকাকালীন মায়ের লিভার এই কাজ করলেও জন্মের পর হঠাৎ সেই দায়িত্ব শিশুর শরীরের উপর চলে আসে, যা এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে বিলিরুবিনের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে। তাই এই সময় শিশুকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিলিরুবিনের মাত্রা দ্রুত বেড়ে গেলে তা মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে এবং কার্নিক্টেরাস নামের গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে, যার ফলে সেরিব্রাল পালসি, শ্রবণশক্তি হ্রাস বা মানসিক বিকাশে বাধা দেখা দিতে পারে।

Advertisement

এই কারণে হাসপাতালে অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যবধানে রক্ত পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনে ফোটোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নবজাতককে ঘন ঘন খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— মাতৃদুগ্ধ দিনে ৮ থেকে ১২ বার এবং বিকল্প দুধ হলে প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা অন্তর। এতে শরীর থেকে বিলিরুবিন দ্রুত বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।

এছাড়া হালকা আলোয় কিছু সময় রাখা যেতে পারে, তবে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলাই উচিত। শিশুর অতিরিক্ত ঘুম, খেতে অনীহা, ওজন না বাড়া বা শরীরের বিভিন্ন অংশে হলুদ রং ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সর্বোপরি, নবজাতকের জন্ডিস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক ও স্বাভাবিক হলেও সতর্ক নজরদারি এবং সময়মতো চিকিৎসাই শিশুকে নিরাপদ রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়।

Advertisement