• facebook
  • twitter
Monday, 23 February, 2026

উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির অসুখে কমতে পারে শ্রবণশক্তি

হঠাৎ কানে কম শোনা, একটানা ভোঁ ভোঁ শব্দ, ভারসাম্য হারানো বা হাঁটার সময় মাথা ঘোরা এগুলোও হতে পারে সতর্কবার্তা

রক্তচাপের মাত্রা বেশি ওঠানামা করলে কিংবা কিডনির সমস্যা থাকলে কানের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে, এই বিষয়টি অনেকেই জানেন না। হঠাৎ কানে কম শোনা, একটানা ভোঁ ভোঁ শব্দ, ভারসাম্য হারানো বা হাঁটার সময় মাথা ঘোরা এগুলোও হতে পারে সতর্কবার্তা। লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে গেলে পরে বড় ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।

সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-র তথ্য অনুযায়ী, শোনার প্রক্রিয়া মূলত কানের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালি ও স্নায়ুর উপর নির্ভর করে। উচ্চ রক্তচাপে এই সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার কখনও ফেটে গিয়ে ভেতরে রক্তক্ষরণও হতে পারে। এতে অন্তঃকর্ণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘কক্লিয়া’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অংশটি শব্দকে স্নায়ুসংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। কক্লিয়ার ক্ষতি হলে ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে।

Advertisement

উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কানের সংবেদনশীল স্নায়ুকোষও নষ্ট হতে পারে। একবার এই কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর পুনরুদ্ধার হয় না। ফলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ‘টিনিটাস’ নামে একটি সমস্যা দেখা দেয়, যেখানে কানের ভেতর সব সময় ভোঁ ভোঁ বা ঝিঁঝিঁর মতো শব্দ শোনা যায়।
অন্যদিকে, কিডনির অসুখেও কানের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Advertisement

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিডনি রোগে আক্রান্তদের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে শ্রবণশক্তি হ্রাসের সমস্যা দেখা যায়। ভ্রূণ অবস্থায় কান ও কিডনির কোষীয় গঠন অনেকটাই একরকম হওয়ায় কিডনির ক্ষতি কানের উপরও প্রভাব ফেলে। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মতো বর্জ্য পদার্থ বাড়ে, যা কানের সূক্ষ্ম কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পাশাপাশি ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও শ্রবণশক্তি কমাতে পারে।

যে সব লক্ষণ খেয়াল রাখা জরুরি তা হল–কথা স্পষ্ট শুনতে অসুবিধা হওয়া, ফোনে কথা বুঝতে সমস্যা, মানুষ কী বলছে তা বারবার জিজ্ঞাসা,করতে হওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বা কিডনির রোগ থাকলে বছরে অন্তত একবার কানের পরীক্ষা করানো উচিত। ধূমপান ও তীব্র শব্দে গান শোনার অভ্যাস থাকলে তা কমানো বা বন্ধ করা দরকার। শুরুতেই সতর্ক হলে বড় ধরনের শ্রবণ সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

Advertisement