দুর্গাপুজোকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Subhas Chandra Bose) ভয়কে জয় করার শক্তি হিসেবে দেখেছিলেন। জেলে বসে তাই দুর্গার আরাধনা করেছিলেন তিনি। শুধু জেলে নয়, অন্য সময়েও তাঁকে দুর্গাপুজোয় অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। দেশ থেকে দূরে যখন বিদেশের মাটিতে ব্রিটিশ কারাগারে বন্দি তখনও তিনি দেবীর আবাহন করেন।
তিনি (Subhas Chandra Bose) লিখেছিলেন — ‘ভয় জয় করার উপায় শক্তি সাধনা। দুর্গা, কালী প্রভৃতি মূর্তি শক্তির রূপবিশেষ। পূজার উদ্দেশ্য মনের মধ্যে শক্তির বোধন করা।’ কারাগারে মূর্তি গড়ে দুর্গাপুজো করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
সালটা ১৯২৪, ১২ জানুয়ারি। ব্রিটিশ পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্টকে হত্যা করার প্ল্যান করা হয়। দায়িত্ব পরে গোপীনাথ সাহার উপর। টেগার্টকে খুন করতে গিয়ে ভুল করে তিনি খুন করে বসেন আর্নেস্ট ডে নামে এক নিরপরাধ ইউরোপিয়ানকে।
সারা কলকাতায় শুরু হয় ধরপাকড়। ১৯২৪ সালের ২৫ অক্টোবর প্রমাণ ছাড়াই শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হন সুভাষচন্দ্র। তিনি সেই সময় কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আবেদন, নেতাজি তদন্তে নতুন কমিশন চায় ভারত
১৯২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতা থেকে সরিয়ে নেতাজিকে নিয়ে যাওয়া হয় বার্মার মান্দালয় জেলখানায়। সেই সময় বার্মায় প্রচুর বাঙালি থাকত। জেলে ছিলেন যুগান্তর দলের অনেক বিপ্লবী। যেমন- সত্যেন্দ্রচন্দ্র মিত্র, সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ, মদনমোহন ভৌমিক, সতীশচন্দ্র চক্রবর্তী, বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি, ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী, জীবনলাল চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
সুভাষচন্দ্র (Subhas Chandra Bose) জেল কর্তৃপক্ষের কাছে দুর্গাপুজোর জন্য অর্থ চান। আর সেই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে একজন দক্ষ পুরোহিতকে এনে দেওয়ার দাবি জানান। তাঁর কথা ছিল, ‘…দুর্গাপুজো করা খুব কঠিন কাজ। সাধারণ পুরোহিতদের মধ্যে সামান্য কয়েকজনই এই পুজো সম্পন্ন করতে পারেন।–‘
তবে, খুব সম্ভবত তাঁর সেই অনুরোধ রাখা হয়নি। এই পুজো নিয়ে সুভাষচন্দ্র (Subhas Chandra Bose) এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে, পুজোয় নিজের এবং সহবন্দিদের জন্য নতুন কাপড় পাঠানোর অনুরোধ করে বাড়িতে বউদিকে চিঠি পর্যন্ত লিখেছিলেন। তাঁর মেজদাদা শরৎচন্দ্র নয় জনের জন্য নতুন ধুতি, চাদর ইত্যাদি পাঠিয়েছিলেন। যদিও সেগুলো জেলে গিয়ে পৌঁছেছিল পুজোর পর।
ব্রিটিশ সরকার দু’জন পুরোহিতকে জেলের ভিতরে গিয়ে পুজো করার অনুমতি-সহ যাবতীয় ব্যবস্থাই করেছিল। যাতে বন্দিদের পুজো ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। এই পুজোয় নেতাজির আমন্ত্রণে প্রচুর সংখ্যক ইউরোপিয়ান দুর্গাপুজোয় যোগ দেন। বিজয়া দশমীর দিন জেলার সাধারণ মানুষকে জেলের গেটে কারাবন্দিদের সঙ্গে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
জেলের মধ্যে সাধারণ দর্শনার্থীদের কোনও প্রবেশ বা প্রসাদ বিলির ব্যবস্থা ছিল না। তাই সুভাষচন্দ্র (Subhas Chandra Bose) ও তাঁর দল বিসর্জনের ঘাটে প্রতিমার সঙ্গে প্রচুর প্রসাদ সাধারণ মানুষের জন্য পাঠিয়েছিলেন।
দেখুন: ৭৬তম জন্মদিনে মোদির জন্য ভাদনগরে আরতি, হাজির অমিত শাহ