আজ বিজয়া দশমী। উৎসব ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পর উমাকে চোখের জলে বিদায় জানানোর পালা। বাপের বাড়ি ছেড়ে কৈলাসে স্বামী মহাদেবের কাছে সন্তানদের নিয়ে ফিরে যাবেন তিনি। মাকে বরণডালা দিয়ে বরণ করে মিষ্টিমুখ করে এই দিন বিদায় জানানো হয়। তারপর চলে সিঁদুর খেলা। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে পালিত হয় এই বিশেষ দিন। কেন এই দিনটিকে বিজয়া দশমী বলা হয়? এর পিছনের আসল কারণটাই বা কী?
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: শক্তিপীঠ কামাখ্যায় মূর্তি ছাড়াই দেবী দুর্গার আরাধনা, পুজোর অনন্য রীতি
পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুরের সঙ্গে টানা নয় দিন ও নয় রাত্রি যুদ্ধের পর শুক্লা দশমীর দিন মহিষাসুরকে বধ করেন দেবী দুর্গা। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বিজয়া দশমীর মাহাত্ম্য।
বিজয়া দশমীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রামায়ণের কাহিনিও। রাবণ সীতাকে অপহরণ করেছিলেন। রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লঙ্কা অভিযান করেন শ্রীরামচন্দ্র। দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে রাম শুক্লা দশমীর দিনই রাবণকে পরাজিত করেন। অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের এই জয়ও বিজয়া দশমীর তাৎপর্য বহন করে।
মহাভারত অনুসারে, বনবাস ও অজ্ঞাতবাসের পর পাণ্ডবরা আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমীতে শমীগাছের কোটর থেকে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র উদ্ধার করেছিলেন। অন্যদিকে বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুসারে, অশোক বিজয়া দশমী বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সম্রাট অশোকের কলিঙ্ক যুদ্ধের পর শুক্লা দশমীতেই বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের সঙ্গে এই দিনটির সম্পর্ক রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
বিজয়া দশমী শুধু উমার বিদায়ের দিন নয়, অন্যায়ের বিরু্ধে ন্যায়, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ এবং অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর জয়ের প্রতীক। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসব। বিষাদের মাঝেও তাই বিজয়ার বার্তা, সব বাধা পেরিয়ে জয় হোক শুভ শক্তির।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=xFUU3X37kfwSmcix” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>