বাল্মীকি রামায়ণে দুর্গা পুজোর (Durga Puja) উল্লেখ নেই। পুরাণ এবং কৃত্তিবাসী রামায়ণে দুর্গা পুজোর কথা রয়েছে। রামপ্রসাদের হাত ধরে সে উমা, বাড়ির মেয়ে। দুই কন্যা আর দুই পুত্রকে নিয়ে চারদিনের জন্য সে বাপের বাড়িতে আসে।
রাবণকে বধ করার জন্য রাম দেবী দুর্গার (Durga Puja) আরাধনা করেছিলেন। অকালে দেবীর নিদ্রাভঙ্গ করেছিলেন রামচন্দ্র। রাবণ ও তাঁর লঙ্কাপুরী ভদ্রকালীর নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে সুরক্ষিত ছিল। রাবণকে ধ্বংস করতে হলে দেবী ভদ্রকালীর সুরক্ষা গণ্ডী থেকে তাঁকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। আর তার জন্য রামচন্দ্র দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। দেবীকে সন্তুষ্ট করতে না পেরে বিভীষণের থেকে পরামর্শ নেন রামচন্দ্র। দেবীকে সন্তুষ্ট করতে লাগবে ১০৮টি নীল পদ্ম (Lotus)।
রামের আদেশ মতো হনুমান দেবীদহে যান। সেখানেই রয়েছে নীল পদ্ম (Lotus)। তবে পুজো করার সময় একটি পদ্ম (Lotus) কম দেখতে পান তিনি। চিন্তান্বিত হয়ে পড়েন রামচন্দ্র। অবশেষে নিজের পদ্ম সদৃশ নয়ন দেবীকে দান করতে উদ্যত হন। দেবী প্রসন্ন হয়ে আবির্ভূত হন এবং বর দেন রাবণের থেকে সুরক্ষা তিনি সরিয়ে নেবেন। দশমীর দিন রামের হাতে বধ হন রামচন্দ্র। রামের কার্যসিদ্ধি করতে সহায়তা করে পদ্মফুল।
অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট, মোট ৪৮ মিনিট হল সন্ধিক্ষণ। পুরাণ মতে দেবী দুর্গা (Durga Puja) যখন মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে রত তখন তাঁর দুই সেনা চণ্ড ও মুণ্ড দেবীকে আক্রমণ করেন। দেবী দুর্গার তৃতীয় নয়ন থেকে এক দেবী আবির্ভূত হয়ে চণ্ড ও মুণ্ডকে বধ করেন। সেই দেবীর নাম চামুণ্ডা।
দেবীর চার হাত। তিনি নীলপদ্মের (Lotus) পাপড়ির মতো শ্যামবর্ণা। তাঁর ডান হাতে খট্বাঙ্গ ও চন্দ্রহাস। বাঁহাতে ঢাল ও রজ্জুর অস্ত্র। গলায় মুণ্ডমালা, পরিধানে বাঘের চামড়া। কৃষ্ণাঙ্গী, দীর্ঘাঙ্গী ও অতি ভীষণা। সন্ধিপুজোয় দেবী চামুণ্ডারাই পূজা হয় ১০৮ পদ্ম ও ১০৮ প্রদীপ জ্বালিয়ে।
পাঁকে জন্ম নিয়েও পদ্ম (Lotus) নির্মল। তার সৌন্দর্য ও সুবাস অমলিন। জন্ম যেখানেই হোক কর্মই আসল পরিচয়। ভালো কাজ করে নিজের দৃষ্টান্ত তৈরি করা যায়। পদ্মফুল সেই বার্তাই বহন করে। সন্ধিপুজোয় ১০৮ পদ্ম কেন লাগে? তার থেকে কম বা বেশি নয় কেন? হিন্দু শাস্ত্র মতে ১০৮ সংখ্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
হিন্দু দেবতাদের রয়েছে অষ্টোত্তর শতনাম। যোগের ক্ষেত্রেও ১০৮ সংখ্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আয়ুর্বেদ মতে আমাদের শরীরে ১০৮টি ‘পয়েন্ট’ রয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র যন্ত্রের পুজোয় বিশ্বাস করে। শ্রী চক্র যন্ত্রে ৫৪টি করে পুরুষ ও প্রকৃতির মিলন হিসেবে দেখা হয়। যার থেকে সৃষ্টি অর্থাৎ এখানেও ১০৮।
পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, মেচেদা এবং পাঁশকুড়াতে পদ্মফুলের চাষ হয়। এছাড়া বীরভূম ও দুই দিনাজপুরের চাষিরাও পদ্মফুলের (Lotus) চাষ করেন। পূর্ব মেদিনীপুরের ঝিল ও মেদিনীপুরের খালে সব থেকে বেশি পদ্ম (Lotus) চাষ হয়। বীরভূমের বড় বড় জলাশয়ে বর্তমানে চাষ শুরু হয়েছে। সন্ধির সময় লক্ষ লক্ষ পদ্মফুলের (Lotus) দরকার হয়। পদ্মফুল ছাড়া দেবী দুর্গার পূজা অসম্পূর্ণ।
দেখুন:<iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/eVV6EnYyYw0?si=BkO3VkDHl757FMJe” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>