শরৎ এল রে: শিলিগুড়ি সেন্ট্রাল কলোনিতে এবার ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সাজছেন উমা

Image: SNS

দীর্ঘ ছ’দশকের বেশি সময় ধরে হয়ে চলেছে এই পুজো। এ বছর এই পুজো  ৬৪তম বর্ষে পা দিয়েছে।  নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে এই পুজো। উত্তরবঙ্গের পুজোর ইতিহাসে এই প্রথম দেবী দুর্গাকে সাজানো হচ্ছে  ১০০ কেজি  সোনার অলঙ্কারে। ঐতিহ্যবাহী শিলিগুড়ি সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটির এই পূজো ইতিমধ্যেই শহর ছাড়িয়ে সমগ্র উত্তরবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একটি নামজাদা স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দেবীকে রাজকীয় সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: দুর্গা অষ্টমীতে কুমারীপুজো কেন হয়?

তবে কেবল সোনার প্রতিমাই নয়, এবার সেন্ট্রাল কলোনির পুজোর অন্যতম বড় চর্চার বিষয় তাদের স্থান পরিবর্তন। টানা ৬৩ বছর ধরে যে মাঠে এই পুজো হতো, সেখানে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হওয়ায় এবার বাধ্য হয়েই পুজো সরাতে হয়েছে  পুজোর উদ্য়োক্তাদের। নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশনগামী মূল রাস্তার পাশেই গড়ে উঠেছে নতুন মণ্ডপ। মাঠ বদল প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পুজো সম্পাদক প্রকাশ দাস বলেন, ‘আমাদের মাঠ বদলালেও পুজোর ঐতিহ্য বা আবেগ এতটুকু কমেনি। ১০০ কেজি সোনা দিয়ে উত্তরবঙ্গে এর আগে কোথাও প্রতিমা সাজানো হয়নি, আমরাই প্রথম এই উদ্যোগ নিয়েছি। স্থান পরিবর্তন হলেও গোটা উত্তরবঙ্গ আমাদের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে এবং এবারও যে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় হবে, তা নিয়ে আমরা একশো শতাংশ নিশ্চিত।’


প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজোয় মণ্ডপসজ্জাতেও রয়েছে বড়সড় শৈল্পিক চমক। ‘ভাস্কর্যের রূপকথা’ থিমকে সামনে রেখে বালুরঘাটের দক্ষ শিল্পীরা দিনরাত এক করে তৈরি করেছেন রূপকথার মণ্ডপ। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এই পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে আজ অর্থাৎ তৃতীয়াতে। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় এবং কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএম। তবে উৎসবের আড়ম্বর যত বড়ই হোক না কেন, দেবীর নিয়ম-রীতি ও ভোগ নিবেদনে কোনও খামতি রাখছেন না উদ্যোক্তারা। সপ্তমী থেকে দশমী—প্রতিদিনই লুচি, সুজি, শাক, পাঁচরকম ভাজা, পায়েস ও চাটনি। পাশাপাশি  থাকছে খিচুড়ি, পোলাও এবং ফ্রায়েড রাইস।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: ‘রজনী কুটির’-এর দুর্গাপুজো, বর্গি হামলার ইতিহাসের দলিল

উৎসবের পাশাপাশি নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও সরে আসেনি পুজো কমিটি। পুজোর দিনগুলিতে দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ, দরিদ্রনারায়ণ সেবা, রক্তদান এবং নিখরচা স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের মতো একাধিক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এনজেপিগামী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে পুজো হওয়ায় যানজট সামলানো এবং দর্শনার্থীদের সুরক্ষাকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে পুজোর অফিস সম্পাদক সৌরভ নাথ জানান, ‘স্থান পরিবর্তনের কারণে শুরুতে আমাদের মনে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও, এখন আমরা সম্পূর্ণ তৈরি। দর্শনার্থীরা যাতে কোনও রকম যানজট ছাড়া ভালোভাবে ঠাকুর দেখতে পারেন, তার জন্য এনজেপিগামী রাস্তা বন্ধ না করে বিকল্প পথের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মণ্ডপ প্রাঙ্গণে থাকছে কড়া দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।’  সব মিলিয়ে, স্থান বদলে নতুন জায়গায় নতুন চমক নিয়ে উত্তরবঙ্গের পুজো-প্রেমীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সেন্ট্রাল কলোনির দুর্গাপুজো।

দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=lKh7LC6HYIozMnsA” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>