শরৎ এল রে (বিদেশের পুজো): হাজার মাইল দূরে আমস্টারডামে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে প্রবাসী বাঙালিরা

Image: SNS

নীল আকাশের ভেলা এবং শিউলি ফুলের গন্ধ আগমনীর বার্তা নিয়ে আসে। এই সময় বাঙালি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, শারদোৎসবের (Durga Puja) আনন্দ তাঁকে ছুঁয়ে যাবেই। বাংলা যখন ব্যস্ত মায়ের আগমনে তখন হাজার মাইল দূরে নেদারল্যান্ডসের ‘টিউলিপের দেশ’-এর একদল বাঙালি উৎসবে মেতে উঠেছে।

রাজধানী আমস্টারডাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী বাঙালিরা প্রায় এক দশক আগে এক ছাদের তলায় দুর্গাপুজো (Durga Puja) করার উদ্যোগ নেন। বাঙালিদের আড্ডায় চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ‘Holland-e-Hoichoi’ নামে একটি ভাবনার জন্ম হয়। আজ তা আমস্টেলভিনের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে এই উৎসবের জন্য।

সংগঠনের কোর কমিটির প্রবীণ সদস্য সৈকত মিত্র বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে ‘Holland-e-Hoichoi’ শুধু উৎসব উদযাপনের কারণ নয়, ইউরোপের ব্যস্ত জীবনে বাঙালিদের এক জায়গায় এনে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখারও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিদেশের মাটিতে ভিন্ন এক প্রবাসী পরিবেশের মধ্যেও আমাদের শিকড়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেও এটি সাহায্য করেছে’।


আরও পড়ুন: শরৎ এল রে (বিদেশের পুজো) : ব্রিটেনের দুর্গাপুজো, শিকড়ে ফেরার তাগিদ

বাংলার পঞ্জিকা মেনে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সমস্ত আচার-অনুষ্ঠানই এখানে পালন করা হয়। ‘Holland-e-Hoichoi’-এর ব্যানারে প্রবাসী বাঙালিরা পুজোর পাঁচ দিন সম্পূর্ণ বাঙালিয়ানায় মেতে ওঠেন। কলকাতার মতোই হয় কলাবউ স্নান, সিঁদুর খেলা, সন্ধ্যারতি-সহ যাবতীয় আচার নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়।

এ বছর ‘Holland-e-Hoichoi’ পুজো দশ বছরে পা দিয়েছে। সেই উপলক্ষে এবার মণ্ডপ সেজে উঠেছে ‘Down the Memory Lane’ থিমে। সৈকত মিত্র জানান, ‘এক দশকের পুজোকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিমার দিকে যাওয়ার পথটি গত ১০ বছরের দুর্গাপুজোর নানা স্মরণীয় ছবিতে সাজানো হবে। এর মাধ্যমে ‘হইচই পরিবারের’ এক দশকের যাত্রার একটি জীবন্ত টাইমলাইন ফুটে উঠবে।‘

বাঙালি হল ভোজন রসিক। তাই পুজোয় থাকছে বিশেষ ভোজের আয়োজনও। এ বছরের ভোজে বাংলার পাঁচটি ভিন্ন স্বাদ তুলে ধরা হবে। পাল-সেন যুগে রাজা লক্ষ্মণ সেনের দরবারের রাজকীয় ইলিশ, বাংলার সুলতানি আমলের গৌরেশ্বরের কষা মাংস, নবাবি বাংলার নবাববাড়ির বাগদা চিংড়ি, ঔপনিবেশিক বাংলার শোভাবাজার রাজবাড়ির ভোগের খিচুড়ি এবং কলেজ স্ট্রিট কেবিনের ফিশ ফ্রাই থাকছে সেই তালিকায়।

সৈকত মিত্র বলেন, ‘এর পাশাপাশি খাবার, পোশাক, গয়না, শারদীয়া পুজোবার্ষিকী এবং বাংলা বইয়ের জন্য বিশেষ স্টল থাকবে। সব মিলিয়ে প্রবাসী বাঙালিদের আড্ডাও জমে উঠবে।‘

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে(পেটপুজো): পুজোয় হারিয়ে যাওয়া খাবারের স্বাদ পেতে বানিয়ে ফেলুন চিংড়ি মাছের বিনুনি কচুরি

তবে বিদেশের মাটিতে সম্পূর্ণ বাঙালি রীতিতে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আয়োজন করা সহজ নয় বলেই জানাচ্ছেন মিত্র। দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিমার পুজো হয়ে এলেও গত বছর প্রথমবার নেদারল্যান্ডসে কলকাতার কুমোরটুলি থেকে তৈরি পঞ্চচূড়া দুর্গাপ্রতিমা পৌঁছয়। খ্যাতনামা শিল্পী প্রদীপ রুদ্র পালের তৈরি সেই প্রতিমা কুমোরটুলি থেকে আমস্টেলভিনে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিদেশে বসে পুজোর (Durga Puja) আয়োজন তাই সদস্যদের কাছে অনেকটাই সম্মিলিত উদ্যোগ। আমস্টেলভিনের কোনও বাঙালি বছরের মধ্যে কলকাতায় এলে ফেরার সময় তাঁর হাতে প্রয়োজনীয় পুজোর সামগ্রীর একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তাঁরা নেদারল্যান্ডসে ফেরেন। পুজোর (Durga Puja) মন্ত্রোচ্চারণ এবং আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নেদারল্যান্ডসে বসবাসকারী দুই ইঞ্জিনিয়ার। অন্যদিকে সংগঠনের বাঙালি মহিলারা মিলেই সম্প্রদায়ের সকলের জন্য ভোগ রান্না করেন।

পশ্চিমবঙ্গে বাড়ির লোকেরা যখন পুজোর পাঁচ দিন ছুটি নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন, আমস্টেলভিনের বাঙালিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ততটা সহজ নয়। এ বছর ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে পুজো চলবে। কিন্তু বিদেশে কর্মজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া কঠিন। তাই উৎসবের আনন্দ যাতে কাজের চাপে ম্লান না হয়ে যায়, সে জন্য সংগঠনের সদস্যরা পালা করে ছুটি নেন। ফলে কেউ কাজে থাকলেও অন্যরা পুজোর (Durga Puja) দায়িত্ব সামলান। এইভাবেই কর্মব্যস্ত প্রবাসজীবনের মধ্যেও বাঙালিয়ানার পাঁচ দিনকে নিজেদের মতো করে উদ্‌যাপন করেন তাঁরা।

দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/UbdrBzAThdg?si=Ntm2DBdiO5kDAta1″ title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>