অভিষেকের কনভয় আটকে দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ , সাসপেন্ড ১, শাস্তির পথে বাকি দুজন তৃণমূল নেতা

মেদিনীপুর ,৩১ মে — নিজেরদের দলের মধ্যে দ্বন্দ। আর দ্বন্দ্বের নালিশ করতে গিয়ে অভিষেকের রোষের মুখে পড়তে হলো বুথ সভাপতি ও আইটি সেলের কর্মীদের। তৃণমূলের ব্লক সভাপতিকে নিয়ে বেশ কিছুদিন  ধরেই অসন্তুষ্ট ছিলেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি ও আইটি সেলের কর্মীরা।এবার পরিস্তিতি এতটাই গরম হয়ে যায় যে নিজেদের ই দলের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের কাছে দ্বারস্থ হবেন বলে ঠিক করেন। 

ব্লক সভাপতিকে সরানোর প্রতিবাদে তার অনড় তিন তৃণমূল কর্মী । সেইমতো রবিবার তৃণমূলে নবজোয়ার যাত্রায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।রাত ৯টা নাগাদ বীরসিংহ থেকে যখন তাঁর কনভয় বেরোচ্ছে বিদ্যাসাগর হাইস্কুল মাঠের তাঁবুর উদ্দেশে, তখন আচমকাই ঘাটালের মূলগ্রাম বুথের সভাপতি শেখ সোলেমান আলি, ঘাটাল ব্লক তৃণমূলের আইটি সেলের কর্মী দীপঙ্কর ঘোষ এবং বীরসিংহ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক শেখ আবদুল রশিদ তাঁর কনভয় আটকে শুয়ে পড়েন। তাঁদের দাবি ছিল, ব্লক সভাপতি দিলীপ মাঝি দলের জন্য ক্ষতিকর, তাঁকে পদ থেকে না সরালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি কেউ আটকাতে পারবে না। দিলীপকে সরিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক শঙ্কর দলুইকে সেই পদে বসানোর জন্য অভিষেকের কাছে আর্জি জানান তাঁরা।

 কিন্তু ফল হল উল্টো। প্রতিবাদ জানানোর পদ্ধতিতে তিতিবিরক্ত অভিষেক উল্টে ওই ৩ তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধেই কড়া শাস্তিমূলক পদ্ধক্ষেপ নিয়েছেন ।গাড়ির কাচ নামিয়ে অভিষেক বলেন, দলে এসব চলে না। ‘প্রকৃত তৃণমূলকর্মীরা এভাবে গাড়ি আটকে ক্ষোভ প্রকাশ করে না,’ জানান তিনি। এরপরেই দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সোলেমান আলিকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন অভিষেক।


সূত্রের খবর, রবিবার রাতেই অভিষেকের নির্দেশে ব্লক সভাপতি দিলীপ মাঝি সাসপেন্ড করেছেন সোলেমান আলিকে। দীপঙ্কর ঘোষ এবং আবদুল রশিদকেও শো-কজ করা হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল নেতার দাবি, ‘হয়তো কিছু ভুল করেছিলাম, তাই সাসপেন্ড করা হয়েছে।’ অঞ্চল প্রধানের কাছে সাসপেন্ড করার নির্দেশের চিঠি পাঠানো হলেও সেই চিঠি তাঁর কাছে এসে পৌঁছায়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে আরও জানিয়েছেন, ‘আমি ৯৮ সাল থেকে দল করি, সাসপেন্ড করেছে ঠিক আছে। কিন্তু দল ছাড়তে পারব না।’ তবে এসবের পরেও কনভয়ের সামনে শুয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে দাঁড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলাম।’

ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আশিস হুদাইত এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, সোলেমান আলিকে সেদিনই সাসপেন্ড করা হয়েছে। বাকিদেরও শোকজ করা হবে। ৭ দিনের মধ্যে সেই চিঠির উত্তর না দিলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।