দিল্লিতে অভিষেক-সহ তৃণমূল সাংসদরা কেন্দ্রের কাছে বকেয়া অর্থ আদায়ে ধর্ণায়    

দিল্লি, ৫ মার্চ – ১০০ দিনের কাজ-সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য গত কয়েক মাস ধরে তদ্বির করে আসছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল।  সেই বকেয়া পাওনা দাবি করে সম্প্রতি কলকাতায় দুদিন ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দিল্লি গেলেন তৃণমূল সাংসদরা । তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি,  কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিং দেখা না করলে  তাঁর দফতর কৃষিভবনের বাইরে ধর্নায় বসবেন তৃণমূল সাংসদরা।  অভিষেকের নেতৃত্বে তৃণমূল সাংসদরা  দিল্লির কৃষি ভবনের সামনে জড়ো হন।

বুধবার সকালে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের সঙ্গেই দেখা যায় দলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার, দোলা সেন, শান্তনু সেন প্রমুখকে দিল্লির কৃষি ভবনের সামনে দেখা যায় ।  হঠাৎই এভাবে চলে যাওয়ায় হই হই পড়ে যায় কৃষিভবনের সামনে। সংসদ ভবনের অদূরেই কৃষিভবন। তৃণমূলের প্রায় পঁচিশ জন সাংসদ এভাবে গিরিরাজের দফতরের সামনে চলে যেতেই দিল্লি পুলিশ তাঁদের ঘিরে ফেলেন। তৃণমূল শিবির সূত্রে আগেই জানানো হয়েছিল, মন্ত্রী সময় না দিলে বকেয়া অর্থের দাবিতে মন্ত্রীর দফতরেই ধর্নায় বসবেন তাঁরা। সেই মোতাবের দুপুর ২টো নাগাদ ধর্নায় বসেন তৃণমূল সাংসদরা।
তৃণমূলের তরফে এ বিষয়ে অনমনীয় অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্য টাকা পাওয়ার আশ্বাস না মিললে সাংসদরা ওই জায়গা ছেড়ে যাবেন না-। সচিব জানান, হিসাবে গরমিল থাকায় বকেয়া মেটানো যাচ্ছে না। অভিষেক তাঁকে জানান, অভিযুক্তদের খুঁজে বার করে শাস্তি দিক কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু ১৭ লক্ষ পরিবারের স্বার্থে ১০০ দিনের কাজের  বকেয়া ৭ কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হোক।
পাওনা আদায়ে তাঁরা যে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়াতে চান, মঙ্গলবার সেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন অভিষেক। বলেছিলেন, “একাধিক বার আমাদের প্রতিনিধিদল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে একশো দিনের কাজের বকেয়া কেন্দ্রীয় অর্থ দাবি করেছে। কিন্তু লাভ হয়নি।” অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, “একমাত্র বাংলার টাকাই আটকে রাখা হয়েছে। ১৭ লাখ পরিবার কাজ করে বসে রয়েছে, টাকা পায়নি। বাকি রয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা।” বিজেপির তরফে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে, রাজ্য খরচ করা টাকার হিসাব না দেওয়ার কারণেই টাকা আটকে রাখা হয়েছে। পাল্টা তৃণমূলের তরফে বলা হচ্ছে, দুর্নীতির প্রমাণ থাকলে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক কেন্দ্র। কিন্তু রাজ্যের প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দিক।
আর কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ক্ষণ ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। সে কথা মাথায় রেখেই গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পে আটকে থাকা টাকা আদায়ে ‘সক্রিয়’ হতে চাইছে তৃণমূল। গত বুধ এবং বৃহস্পতিবার ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনার’ দাবিতে রেড রোডে দু’দিনের ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নার শেষে, আন্দোলনকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তার পরই রবিবার দিল্লি সফরে যান অভিষেক।