• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 8 November, 2026

সপ্তম বেতন কমিশন

বর্তমান রাজ্য সরকারের সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের উদ্যোগ এবং তার পরিধি সম্প্রসারণের এই সিদ্ধান্তকে সেই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখা উচিত। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা পর্ষদের অশিক্ষক কর্মীদের এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে যাঁরা নেপথ্যে থেকে কাজ করেন, তাঁদের অবদানও যে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত তারই স্বীকৃতি।

সপ্তম বেতন কমিশন

Photo: File Photo

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মরত হাজার হাজার অশিক্ষক কর্মচারীর কাছে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় আসার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক খবর। রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৫টি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত অশিক্ষক কর্মচারী এবং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পর্ষদ ও কাউন্সিলের সমস্ত কর্মচারীকে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

যে তিনটি শিক্ষা পর্ষদ ও কাউন্সিলের কর্মীরা এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসছেন, সেগুলি হল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এই প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচল রাখা, পরীক্ষা পরিচালনা, ফল প্রকাশ, ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া এবং শিক্ষা সংক্রান্ত নানা কাজের পিছনে তাঁদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এতদিন বেতন কাঠামো ও চাকরির সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এই কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এবার তাঁদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনার দায়িত্ব সপ্তম বেতন কমিশনের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা পর্ষদগুলির কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

অর্থ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যপাল আর এন রবির সিদ্ধান্তে সপ্তম বেতন কমিশনকে এই কর্মীদের বর্তমান বেতন কাঠামো এবং চাকরির শর্তাবলি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। অর্থাৎ, বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক বিবেচনার স্তরে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অবশ্য এখনও বেতন কতটা বাড়বে, নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে কিংবা বকেয়া অর্থ কীভাবে মেটানো হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর। তাই এখনই বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট ধারণা করা ঠিক হবে না। তবে পর্যালোচনার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি উন্নত ও সম্মানজনক বেতন কাঠামো তৈরির পথ প্রশস্ত করতে পারে।

একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয়। কর্মীদের জীবনযাত্রার মান, কাজের প্রতি উৎসাহ এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মদক্ষতার সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা কর্মীরা যদি সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পান, তাহলে তাঁদের কাজের প্রতি আগ্রহ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বাড়বে। তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উপরেও।

বর্তমান রাজ্য সরকারের সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের উদ্যোগ এবং তার পরিধি সম্প্রসারণের এই সিদ্ধান্তকে সেই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখা উচিত। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা পর্ষদের অশিক্ষক কর্মীদের এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে যাঁরা নেপথ্যে থেকে কাজ করেন, তাঁদের অবদানও যে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত তারই স্বীকৃতি।

এখন কর্মীদের প্রত্যাশা, বেতন কমিশন দ্রুত তার কাজ শেষ করবে এবং বাস্তবসম্মত ও কর্মীবান্ধব সুপারিশ পেশ করবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারও সেই সুপারিশের ভিত্তিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্য ও প্রশাসনিক বাস্তবতার মধ্যেও ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

সব মিলিয়ে, সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তিনটি শিক্ষা পর্ষদ ও কাউন্সিলের কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এটি শুধু বেতন কাঠামো পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে না, বরং শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মরত বহু মানুষের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষাকেও নতুন করে জাগিয়ে তুলছে।