চলতি সপ্তাহে আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার কথা। আর এই শান্তিচুক্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছে কার্যত গোটাবিশ্ব। কারণ এই যুদ্ধের কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে সব দেশ। আর ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে ভারত। পাল্লা দিয়ে তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়ছিল। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভারতের শেয়ার বাজার, অর্থনীতিও। এমনকি কার্যত সমস্ত হিসেবের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল সোনা রূপোর দর। কারণ নিরাপদ বিনিয়োগের সেরা অপশন হিসেবে এদিকেই ঝুঁকে গিয়েছিল অধিকাংশ মানুষ।
চলতি বছরের শুরু থেকে রকেটের গতিতে দৌড়তে শুরু করেছিল সোনা ও রূপোর দাম। তার ফলে হাসি ফুটেছিল বিনিয়োগকারীদের মুখে। কিন্তু আমেরিকা- ইরান চুক্তির পরে অনেকেই আশা করছেন সোনা ও রূপোর হয়তো কিছুটা কমবে এই দাম। জানুয়ারি মাসে কার্যত রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনা রূপোর দাম। কিন্তু পরবর্তীতে সেখান থেকে প্রায় ২০ শতাংশ এই দামের পতন হয়েছিল। আজ এমসিএক্সে সোনার দাম রয়েছে ১,৫৩,৪৯৬ টাকা প্রতি ১০ গ্রামে। অন্যদিকে আজ এমসিএক্সে রূপোর দাম রয়েছে ২,৬৫,০০০ টাকা প্রতি কিলো। তবে এই দাম যদি কিছুটা নেমে আসে তাহলে তা বাকিদের জন্য কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। যেহেতু এই মুহূর্তে শেয়ার বাজারে পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে রয়েছে সেই কারণেই আরও সোনা ও রূপোর দিকে তাকিয়ে রয়েছেন মানুষজন।
তবে মধ্যবিত্ত আমজনতার জন্য বর্তমান সোনা ও রূপোর দাম রীতিমত ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদিও গতকালের তুলনায় আজ কিছুটা হলেও কম রয়েছে এই সোনা ও রূপোর দাম। আজ কলকাতাতেই ২৪ ক্যারেট ১ গ্রাম সোনার দাম গুডরিটার্নস অনুসারে রয়েছে ১৫,১৩৭ টাকা প্রতি গ্রাম। আর ২২ ক্যারেট ১ গ্রাম সোনার দাম রয়েছে ১৩,৮৭৫ টাকা। যা গতকালের তুলনায় কম। কিন্তু এই পরিবর্তন টি সাধারণ মানুষের কাছেও অনেকটা। এমনকি যারা ডিজিটাল গোল্ডে বিনিয়োগ করতে চান তারাও এই মুহূর্তে পিছিয়ে আসছেন।
সাধারণত সোনা ও রূপো সসাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হয়। আর যুদ্ধের বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে প্রভূত পরিমাণে মানুষ সরে যাওয়ার বেড়ে গিয়েছিল এই দুই ধাতুর দাম। সেই সঙ্গে বাজার হয়ে উঠেছিল অস্থিতিশীল। আর তা নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য একদমই সঠিক ছিল না। আর তাই আশা করা হচ্ছে এই চুক্তি যদি স্বাক্ষরিত হয় তাহলে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কিছুটা হলেও কমবে।




