• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 30 September, 2026

তেলের দাম বৃদ্ধির ধাক্কা, ডলারের তুলনায় আরও দুর্বল ভারতীয় মুদ্রা

বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, তেলের দাম বেশি থাকলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিকে সুদের হার কমানোর বদলে তা বাড়ানোর কথা ভাবতে হতে পারে।

তেলের দাম বৃদ্ধির ধাক্কা, ডলারের তুলনায় আরও দুর্বল ভারতীয় মুদ্রা

Photo: Magnific

তেলের দাম বাড়ার ধাক্কায় ডলারের তুলনায় আরও দুর্বল হল ভারতীয় মুদ্রা। মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই ডলার প্রতি ৯৬.০৫ টাকায় নেমে যায় মুদ্রার দর। সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে তা আরও নেমে দাঁড়ায় ৯৬.০৭-এ। এর আগে সোমবারও রুপির দর ০.২ শতাংশ কমে ডলার প্রতি ৯৫.৯৮২৫-এ বন্ধ হয়েছিল। অর্থাৎ, এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে রুপির দর নেমেছে সবচেয়ে নিচু স্তরে।

এর মূল কারণ অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৭.৪ ডলারে পৌঁছয়। এর ফলে ভারতের মতো তেল আমদানি-নির্ভর দেশের মুদ্রা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে একই পরিমাণ তেল কিনতে ভারতকে বেশি ডলার খরচ করতে হয়। এতে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং মুদ্রার উপর চাপ তৈরি হয়। পশ্চিম এশিয়ার তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে মুদ্রার উপর তার প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে।

মুদ্রার দরপতন কিছুটা সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে ডলার বিক্রির সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই কারণেই রুপির দরপতন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বাজারের ধারণা।

শুধু ভারতীয় মুদ্রাই নয়, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। এমএসসিআইয়ের এশীয় শেয়ার সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। মুম্বাইয়ের শেয়ারবাজারেও প্রায় ১ শতাংশ পতন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বন্ডের ইল্ড বা সুদ থেকে পাওয়া আয়ও বেড়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, তেলের দাম বেশি থাকলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিকে সুদের হার কমানোর বদলে তা বাড়ানোর কথা ভাবতে হতে পারে।

এর পাশাপাশি বিদেশি লগ্নিকারীদের ভারতীয় বাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতাও ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এখনও পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার ও বন্ড থেকে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। চলতি বছরে মোট বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯.৬ বিলিয়ন ডলার।

তবে বাজারে মুদ্রার দর কতটা নামবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। আরবিআইয়ের হস্তক্ষেপ এবং বাজারে ডলারের জোগান রুপির পতন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।