সোমবার দেশীয় বাজারে রুপোর দামে বড় উত্থান দেখা গেল। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তেই রুপোর দাম এক ধাক্কায় ৪ হাজার টাকারও বেশি বেড়ে যায়। সোনা স্থিতিশীল থাকলেও এদিন বাজারের মূল আকর্ষণ ছিল রুপোই।
বিকেল প্রায় ৩টা ১৫ মিনিট নাগাদ এমসিএক্সে রুপোর দাম দাঁড়ায় ২,৭৬,০৭৫ টাকা। দিনের লেনদেনে তা ৪,২২৯ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
Advertisement
সাধারণত সোনা ও রুপো—দুই ধাতুকেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। তবে রুপোর একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য হল এর শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবহার। সৌরশক্তি, ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক গাড়ি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা রয়েছে। ফলে শুধু নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেই নয়, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির আশাতেও রুপোর দাম বাড়তে থাকে।
Advertisement
এদিন মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হওয়াও রুপোর দামে বড় ভূমিকা নেয়। ডলার দুর্বল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপো ও সোনার মতো পণ্য তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ে এবং তার প্রভাব পড়ে দামে।
অন্যদিকে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতনও বাজারকে চাঙ্গা করেছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তাতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। তেলের দাম কমলে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির চাপও কমে এবং বাজারে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হয়।
এদিন সামগ্রিক বাজারও ইতিবাচক সুরে খুলেছিল। তেলের দাম কমা, টাকার বিনিময় হার কিছুটা শক্তিশালী হওয়া এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমার আশায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাব উন্নত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রুপো একসঙ্গে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা এবং ইতিবাচক বাজার ভাবনার সুবিধা পাচ্ছে। সেই কারণেই স্বল্পমেয়াদে সোনার তুলনায় রুপো বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাজারে ওঠানামা চললেও রুপো যথেষ্ট স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে। তাঁর কথায়, “এমসিএক্স রুপো সামান্য গ্যাপ-আপ দিয়ে খুলেছে এবং এখনও ২,৭৬,০০০ টাকার উপরে ধরে রেখেছে, যা বাজারে স্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘যদি দাম ২,৭৭,০০০ টাকার উপরে স্থায়ীভাবে উঠে যেতে পারে, তাহলে তা ২,৭৯,০০০ থেকে ২,৮০,০০০ টাকার দিকে এগোতে পারে।’ তবে বিনিয়োগকারীদের সতর্কও করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘যদি দাম ২,৭৩,০০০ টাকার নিচে নেমে যায়, তাহলে তা আবার ২,৭০,০০০ থেকে ২,৬৮,০০০ টাকার দিকে চলে যেতে পারে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে রুপোর দামের দিক নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেবে আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক তেলের বাজার এবং মার্কিন ডলারের শক্তি। ফলে বিশ্ব রাজনীতির যে কোনও বড় পরিবর্তন খুব দ্রুত রুপোর বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
Advertisement



