ঘুষ ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে মার্কিন আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। একইসঙ্গে ভাইপো সাগর আদানির বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ থেকেও মুক্তি মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন আদালত ও বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সমস্ত ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে একটি আবেদন জমা দিয়ে গৌতম আদানি এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে করা সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ স্থায়ীভাবে খারিজ করার আবেদন জানিয়েছে। তবে এই নিষ্পত্তি সম্পূর্ণ শর্তহীন নয়। সূত্রের দাবি, মামলার সমাধানের অংশ হিসেবে আদানি গোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে, যা প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই প্রতিশ্রুতির পরই মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় বলে খবর।
Advertisement
অন্যদিকে, এর আগেই গৌতম আদানি এবং সাগর আদানি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা এসইসি-র সঙ্গে একটি দেওয়ানি নিষ্পত্তিতেও পৌছেছিলেন। তাঁরা কোনো ধরণের অপরাধ স্বীকার বা অস্বীকার না করেই ১৮ মিলিয়ন ডলার জমা দিতে সম্মত হন।
Advertisement
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, আদানি গোষ্ঠী আমেরিকার বাজার থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে তা অনিয়মিতভাবে ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি আদানি গ্রিন এনার্জির সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বরাত পেতে ভারতের কয়েকটি রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। ঘুষের মোট অঙ্ক ২৬.৫ কোটি ডলার, অর্থাত প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করা হয়েছিল।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কিন বিচার বিভাগ এবং ইউএস সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা এসইসি যৌথভাবে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছিল।
আরও একটি অভিযোগে বলা হয়েছিল, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন চালানো হয়েছে। দুবাইভিত্তিক একটি সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন ডলারের এলপিজি আমদানির বিষয়ও তদন্তের আওতায় ছিল। পরে সেই বিষয়টি সমাধানের জায়গায় পৌঁছয় এবং প্রায় ২৭৫ মিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬৪৭ কোটি টাকা, নিষ্পত্তিমূল্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এই মামলার নিষ্পত্তি ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, এটি কোনও সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং রাজনৈতিক সমঝোতা। তাঁর অভিযোগ, আদানি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে সরকারের তরফে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আপস করা হয়েছে। তবে সরকারি তরফে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বৃহৎ বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এবং মামলা নিষ্পত্তি আন্তর্জাতিক বাজারে আদানি গোষ্ঠীর অবস্থানকে স্থিতিশীল করতে পারে। তবে একইসঙ্গে ভবিষ্যতে আইন মেনে কাজ হচ্ছে কি না তা সরকারি সংস্থার কড়া নজরদারিতে থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আপাতত স্বস্তি পেলেও বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাচ্ছে না আদানি ইস্যু।
Advertisement



