শেষ নিঃশ্বাসে এক শিল্পীর কথা, “কারুবাসনা”
গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: অমিত দাস
Advertisement
প্রযোজনা: ড. অজয় চক্রবর্তী ও পুষ্প দে ফিল্মস
Advertisement
এক শিল্পীর অস্তিত্বের লড়াইকে কেন্দ্র করে আসছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘কারুবাসনা’। কুমোরটুলির মাটির গন্ধ, শিল্পীর হাতের ছোঁয়া এবং জীবনের গভীর প্রশ্নকে এক সুতোয় বেঁধেছেন পরিচালক অমিত দাস। ছবিটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় রয়েছেন তিনি নিজেই। প্রযোজনায় ড. অজয় চক্রবর্তী ও পুষ্প দে ফিল্মস।
এই ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিমাই ঘোষ, চয়ন দে ও গার্গী রায় চৌধুরী। তাঁদের অভিনয়ে ফুটে উঠেছে প্রবীণ মৃৎশিল্পী কুঞ্জবিহারী পাল, তাঁর কন্যা চারুমতী পাল এবং ছাত্র শিবেনের জটিল সম্পর্ক, দ্বন্দ্ব ও আবেগ। অশীতিপর কুঞ্জবিহারী পাল শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি কুমোরটুলির জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর তৈরি মূর্তি বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছেছে বিদেশের মাটিতেও।
কিন্তু দুর্গাপুজোর আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারি নিষেধে মাটির কাজ থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হন কুঞ্জবিহারী। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর মানসিক টানাপোড়েন। কাজ ছাড়া কি একজন শিল্পীর অস্তিত্ব থাকে? এই প্রশ্নই ছবির কেন্দ্রে।
মা-হারা মেয়ে চারুমতী বাবার অন্যতম প্রধান শিষ্যা। অন্যদিকে শিবেন— আরেক প্রধান শিষ্য, চারুর সঙ্গে যার সম্পর্ক গভীর। কুঞ্জ চান এই সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে। কিন্তু শিবেন সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এই অস্বীকৃতির পেছনে থাকা অদৃশ্য দ্বন্দ্বই গল্পকে নিয়ে যায় নতুন মোড়ে।
‘কারুবাসনা’ শুধু একটি পারিবারিক বা সম্পর্কের গল্প নয়, এটি একজন শিল্পীর উত্তরাধিকার, ভয়, ভালোবাসা ও অসম্পূর্ণতার দলিল। শিল্পী মন কীভাবে প্রতিষ্ঠার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় নিজের মূল্যবান সম্পদ হারানোর ঝুঁকি নেয়, সেই যন্ত্রনাও ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ছবির সঙ্গে যুক্ত কেউই কোনও পারিশ্রমিক নেননি। নিঃস্বার্থ পরিশ্রমে তৈরি এই ছবি দর্শকদের জন্য এক আন্তরিক উপহার বলেই মনে করছেন নির্মাতারা।
আগামী ২৩ জানুয়ারি, ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক কলকাতা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রথমবার প্রদর্শিত হবে ‘কারুবাসনা’। রোটারি সদনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছবিটি দেখানো হবে।
শিল্প কি শুধু হাতে বাঁচে, নাকি হৃদয়ে— এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় ‘কারুবাসনা’। একটি ছবি, যা দেখার পরও থেকে যায় দর্শকের মনে।
Advertisement



