• facebook
  • twitter
Friday, 6 March, 2026

রবীন্দ্রনাথের ‘বলাই’ গল্প অবলম্বনে প্রভাত রায়ের নতুন ছবি

একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি হিসেবে নির্মাণ করার হবে

৮২ বছর বয়সে আবার নতুন ভাবে ছবির পরিচালনায় হাত দিচ্ছেন পরিচালক প্রভাত রায়।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাই’ গল্প অবলম্বনে সিনেমাটির চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে। বলাই-এর গল্প এমনই, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া বহু বছর ধরে এটি স্কুলের পাঠ্যসূচিরও অংশ।

বলাই ছবিটি করার পিছনে কারণ হিসেবে পরিচালক প্রভাত রায় বলেছেন, একদিন আমি আমার মেয়ে একতার সঙ্গে কফি খেতে খেতে গল্প করছিলাম। কথার ফাঁকে সে আমাকে সংক্ষেপে গল্পটি শোনায় এবং বলে যে এটি একটি খুব সুন্দর সিনেমা হতে পারে।

Advertisement

প্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমি ওকে বলেছিলাম— ‘তুমি স্ক্রিপ্টটা লেখো এবং সবকিছু ব্যবস্থা করে দাও, আমি ছবিটি পরিচালনা করবো।‘ যেহেতু এটি মেয়ের সবচেয়ে প্রিয় গল্প, ও ভীষণ খুশি হয়েছিল এবং সেই মুহূর্ত থেকেই ও খুব মন দিয়ে স্ক্রিপ্টটা লিখেছে। ‘বলাই’ অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি গল্প।

Advertisement

তারপর থেকেই আমরা প্রায় প্রত্যেকদিনই ছবির সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করে চলেছি। নতুন প্রজন্মের অনেক অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ভাবে পরিচয় নেই, কিন্তু একতা আমাকে তাদের অনেকের সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি সত্যিই খুব উদগ্রীব।

আমরা মূল গল্পটির সারমর্ম অক্ষুণ্ণ রেখে সেটিকেই অবলম্বন করছি, শুধু চরিত্রগুলোর আবেগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন করা হয়েছে। তিন বছর আগে যখন আমার শারীরিক অবস্থা ঠিক ছিল না,  মনে হয়েছিল আর বেশিদিন বাঁচব না। কিন্তু একতা আমার জীবনে সন্তান রূপে আশীর্বাদের মতো এসে যেন সবকিছু বদলে দিল।

ঠিক যেমন ছোট্ট বলাইয়ের জীবনে হঠাৎ করে শিমুল গাছটি উপস্থিত হয় একটি সতেজ বাতাসের মতো, যা তাকে দেয় সান্ত্বনা, বন্ধুত্ব আর সঙ্গ। এই তিন বছরে একতা আমার অনেক ইচ্ছা ও স্বপ্ন পূরণ করেছে। তবু কোথাও না কোথাও আমার মনে আবারও সেটে ফিরে যাওয়ার একটি ইচ্ছে রয়ে গিয়েছিল। আমার শেষ বার ছবি করেছিলাম এগারো বছর আগে, আর এখন আমার মেয়ে আবার সেই স্বপ্ন পূরণে আমাকে সাহায্য করছে। আমার কাছে এটি যেন জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার।

আমি খুব চেয়েছিলাম একতা আমার সঙ্গে এই ছবির সহ-পরিচালক হোক, তার নাম আমার নামের পাশে পরিচালকের তালিকায় থাকুক। কিন্তু সে তাতে রাজি হয়নি। সে ছবির প্রতিটি বিষয় এত সুন্দরভাবে গুছিয়ে দিচ্ছে যেমনভাবে ও আমার আত্মজীবনী ‘ক্যাপস্টিক’ বইটির সময় করেছিল। এই একটি আফসোস হয়তো আমার থেকে যাবে।

ছবিটি বর্তমানে প্রি-প্রোডাকশনের পর্যায়ে রয়েছে, আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি আমাকে সেই পুরোনো দিনের কাজ করার স্মৃতিগুলো আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমার বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে আমি এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বদলে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি হিসেবে নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

হয়তো এটিই আমার শেষ চলচ্চিত্র হতে পারে, তাই আমি এটিকে যতটা সম্ভব ভালোভাবে করার চেষ্টা করতে চাই। ছবিটির প্রযোজনা করছেন এমআরজে ফিল্মস-এর কর্ণধার ড. মনোরঞ্জন জেনা। অভিনয়ে রয়েছেন কৌশিক সেন, অনুজয় চট্টোপাধ্যায়, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গীত পরিচালনায় কবীর সুমন এবং চিত্রনাট্য, সংলাপ ও কাস্টিং — একতা ভট্টাচার্য

Advertisement