• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 8 October, 2026

প্রয়াত অভিনেতা নানা পটেকর, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, বয়স হয়েছিল ৭৫

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি চিকিৎসক দল তাঁর গোয়ার বাড়িতে পৌঁছয়। কিন্তু ততক্ষণে তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন

প্রয়াত অভিনেতা নানা পটেকর, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, বয়স হয়েছিল ৭৫

Image: SNS

প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পটেকর (Nana Patekar)। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। হঠাৎই অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোরে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি চিকিৎসক দল তাঁর গোয়ার বাড়িতে পৌঁছয়। কিন্তু ততক্ষণে তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘ সময় সিপিআর দেওয়ার পরেও সাড়া না মেলায় তাঁকে দ্রুত মণিপার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভোর সওয়া ৫টার সময় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার আগে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন চিকিৎসকেরা। সকাল ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে হাসপাতালেই তাঁর ময়নাতদন্ত করা হবে।

অভিনেতার পুত্র মালহার পটেকর জানিয়েছেন, বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার পরেই চিকিৎসকদের খবর দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা বাড়িতে পৌঁছনোর পর দেখতে পান, অভিনেতা অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। সিপিআর দিয়েও জ্ঞান ফেরনানো সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

নানা পটেকরের (Nana Patekar) আসল নাম বিশ্বনাথ পটেকর। অভিনয়জগতে তিনি ‘নানা পটেকর’ (Nana Patekar)নামেই পরিচিত। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনে পদার্পণ। মুম্বাইয়ের জেজে স্কুল আফ আর্ট থেকে পড়াশোনা করেছিলেন।

নানা পটেকর (Nana Patekar) অভিনয়ে জগতে নিজস্ব ভাষা তৈরি করেছিলেন। সংলাপ বলার ধরন, কণ্ঠস্বর, চোখের ভঙ্গি এবং শরীরী ভাষার নিখুঁত ব্যবহার তাঁকে সমসাময়িক অভিনেতাদের থেকে স্বতন্ত্রতা দিয়েছিল। তিনি নেগেটিভ চরিত্রে যেমন বিশ্বাসযোগ্য ছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে হাস্যরসাত্মক এবং আবেগঘন চরিত্রেও নিজের ছাপ রেখেছিলেন।

‘পরিন্দা’ ছবিতে অণ্না শেঠের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ওই ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ফিল্মফেরারের সেরা সহ-অভিনেতা পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ‘ক্রান্তিবীর’-এ প্রতাপ নারায়ণ তিলকের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সেরা অভিনেতার সম্মান এনে দেয়। ‘অগ্নিসাক্ষী’-তে এক হিংস্র ও নিয়ন্ত্রণপ্রবণ স্বামীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষ নজর কেড়েছিল।

এই ধরনের ছবির পাশাপাশি ‘খামোশি দ্য মিউজিক্যাল’-এর মতো সিনেমায়ও তিনি অভিনয় করেছেন। সেখানে তাঁকে শ্রবণ বাকশক্তিহীন বাবার চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। ‘প্রহার দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’-এ মেজর ‘ভিএস চওহানের’ ভূমিকায় অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটি পরিচালনাও করেছিলেন তিনি। চরিত্রটির জন্য মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির শারীরিক প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন।

অব তক ‘ছাপ্পান’-এর পুলিশ অফিসার সদু আগাশে কিংবা ওয়েলকাম-এর উদয় শেট্টি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজারে চরিত্রে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। আর ‘নটসম্রাট’-এর গণপত বেলভালকর চরিত্রে তাঁর অভিনয়কে কেরিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে ধরা হয়। চরিত্রটির বার্ধক্য, একাকিত্ব, অহংকার এবং ধীরে ধীরে অসহায় হয়ে পড়ার যন্ত্রণা নানা ফুটিয়ে তুলেছিলেন অত্যন্ত সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে।

চলতি বছরে তাঁর ‘সুবেদার’ ছবি মুক্তি পায়। সেখানে অনিল কাপুরের সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে। ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া বিশাল ভরদ্বাজের ও ‘রোমিও’ ছবিতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একাধিক জাতীয় পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছেন নানা পটেকর (Nana Patekar)। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। তাঁর  (Nana Patekar) প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র হারাল এক বলিষ্ঠ অভিনেতাকে।

দেখুন: