টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ অনুজয় চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বুধবার সকালে প্রয়াত হয়েছেন অভিনেতার বাবা। আচমকা এই মৃত্যুর ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এখনও পর্যন্ত প্রিয় মানুষটির চলে যাওয়ার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি তাঁরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব গুরুতর অসুস্থ ছিলেন না অনুজয়ের বাবা। কয়েকদিন আগে শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে বৈদ্যবাটিতে চিকিৎসা চললেও পরে দ্রুত কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে।
এই প্রসঙ্গে অভিনেতার স্ত্রী দেবারতি চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের অনুমান ছিল ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে। সেই কারণেই দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দেবারতি বলেন, “সম্ভবত ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছিল। বৈদ্যবাটি থেকে সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসা শুরু হয়। আমরা ভেবেছিলাম পালমোনোলজিস্ট দেখিয়ে সঠিক চিকিৎসা করানো যাবে এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
গত ৬ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অনুজয়ের বাবাকে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়েছিল বলে জানা যায়। এমনকি ৮ জুন তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই ঘটে বিপর্যয়।
দেবারতির কথায়, হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার আগেই আচমকা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা অনেক সময় পূর্বাভাস ছাড়াই ঘটতে পারে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয় এবং ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়।
পরিবারের সদস্যরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। চিকিৎসকেরাও সর্বতোভাবে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের জানান, তিনি আর নেই।
মৃত্যুকালে অনুজয় চট্টোপাধ্যায়ের বাবার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। আগামী জুলাই মাসে তাঁর ৬৬ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। আচমকা এই মৃত্যু পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং পরিচিত মহলের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।
এই কঠিন সময়ে অভিনেতা এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন টেলিভিশন ও বিনোদন জগতের বহু সহকর্মী। সামাজিক মাধ্যমেও শোকবার্তায় ভরে উঠেছে অনুজয়ের অনুরাগীদের টাইমলাইন। প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনায় এখন শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার।




