• facebook
  • twitter
Monday, 2 March, 2026

বাঙালির নস্টালজিয়া ‘আয় খুকু আয়’-এর ৫০ বছর

যাত্রাতেও গান করেছেন। একসময় চুটিয়ে যাত্রা হতো৷ তখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছাড়াও আরও অনেক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন, স্মৃতিচারণ করলেন শিল্পী।

বিজ্ঞাপনের জিঙ্গল কিংবা আধুনিক বাংলা গান, নিজস্ব বাচনভঙ্গিতে তিনি মুগ্ধ করে রেখেছেন কয়েক প্রজন্মকে। একসময় বাঙালির বাড়ির ড্রয়িংরুমে তিনি থাকতেন রেডিও মাধ্যমে, কিংবা টিভিতে। সেই চেনা সুর, সেই চেনা বোরোলীনের চিরকালীন বিজ্ঞাপন। তিনি ছিলেন, আর তিনি থেকে যাবেন আজীবন। এর মধ্যেই বর্তমানের সেতুতে তিনি আছেন। বাঙালির মননে আছেন। বহাল তবিয়তে আছেন— তিনি শ্রাবন্তী মজুমদার। দীর্ঘ বিরতির পর আবার কলকাতায় ফিরেছেন বাংলার ‘জিঙ্গল কুইন’। উপলক্ষ তাঁর কালজয়ী গান ‘আয় খুকু আয়’-এর পঞ্চাশ বছর পূর্তি।

শ্রাবন্তীর কণ্ঠ মানেই এক জাদু, একটা ভেসে চলা কলাগাছের খোলের সেই ছোটবেলাকার খেলার ভেলা। এক কথায় নস্টালজিয়া। সলিল চৌধুরী থেকে শুরু করে কিশোর কুমার, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় কিংবা বাপ্পি লাহিড়ী— দিকপাল সব সুরকার ও শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তাঁর ঝুলি। তিনি জানালেন, লেখা, সুর আর ইমোশন ছাড়া ‘আয় খুকু আয়’ গানটা হত না। একটা গানে সবটাই গুরুত্বপূর্ণ। নইলে গান দাঁড়ায় না।
শ্রাবন্তী মজুমদার অকপট জানালেন, এই গান প্রথম থেকেই তিনি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে গাইতে চেয়েছিলেন। মান্না দে হলে গাইতেন না। কারণ, মানাতো না। বাবা মেয়ের গলার যে ব্যাপারটা, সেটা হতো না, মান্না দের সঙ্গে গাইলে। আর সত্যিই গানটা রয়ে গিয়েছে। এই গানটা রয়ে যাবে বাঙালির মনে।

Advertisement

একটা কালজয়ী গানের ৫০ বছর উদ্‌যাপনে এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের উপস্থিতি দেখে অবাক হয়েছেন জিঙ্গল কুইন। তিনি জানিয়েছেন, আমাকে নতুন প্রজন্ম মনে রেখেছে এটা দেখেই অবাক। আমি যখন গেয়েছি, বা যখনকার কাজ, তখন তো জন্মায়নি অনেকেই। কিন্তু অনুষ্ঠানে এসেছেন। মা-বাবার কাছে শুনেছেন হয়তো। আমাকে সেই আবেগে মনে রেখেছেন। জীবনে আর এর থেকে বড় পাওয়া কী হয়!
সেলফিতে অভ্যস্ত নন, আজীবন অটোগ্রাফ দিয়ে এসেছেন। এখন সেলফি নিতে আসেন মানুষ। এটা শ্রাবন্তী মজুমদারের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু আনন্দ পেয়েছেন। যাঁরা অটোগ্রাফ নিতে এসেছিলেন, তাঁদের অটোগ্রাফ দিয়েও আনন্দ পেয়েছেন।

Advertisement

যাত্রাতেও গান করেছেন। একসময় চুটিয়ে যাত্রা হতো৷ তখন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছাড়াও আরও অনেক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন, স্মৃতিচারণ করলেন শিল্পী।

পুলকবাবুর সঙ্গে আলাপ অনেক আগেই। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বেশি কাজ করেছেন শ্রাবন্তী মজুমদার। দেশ- বিদেশের গানের বই পড়তেন পুলকবাবু। ওয়াকিবহাল ছিলেন, তিনি জানতেন, তিনি কোন লেভেলের শিল্পী, জানালেন শ্রাবন্তী।

এই অনুষ্ঠান আমার নতুন কিছু লাগেনি। আমি যাঁদের বা যে শ্রোতাদের ছেড়ে গিয়েছিলাম, তাঁরাই আছেন। আমি শুধু একটু দূরে চলে গিয়েছিলাম। আমি ‘আয় খুকু আয়’ অনেকবার গেয়েছি। খালি গলায় গেয়েছি। আমি হাজার হাজার শো করেছি, যাত্রায় গেয়েছি। আমি এই উচ্ছ্বাসে থাকতে ভালোবাসি। আমার দারুণ লেগেছে, ‘আয় খুকু আয়’-এর ৫০ বছর উদ্‌যাপন নিয়ে এমনটাই জানিয়েছেন শিল্পী। তিনি আপ্লুত হয়ে জানান, আমার শ্রোতারা আমারই আছেন। আরও ৫০ বছর পরও আমার গান মনে থাকবে মানুষের। আমি হয়তো থাকব না, গান থাকবে। আমার গান থাকবে। মানুষের মনে থাকবে। এটুকুই তো জীবনের প্রাপ্তি।

তবে আক্ষেপও আছে কিছু। তাঁর মতে, তাঁর গাওয়া অনেক গান বাজানো হয় না। বাজানো হয় না বলে মানুষ জানেনও না। কিন্তু বাঙালির কাছে ভালোবাসা পেয়েছেন অগাধ। এমন ভালোবাসা ক’জনের কপালে জোটে! শিল্পী জানান, আমি বাংলার মানুষের কাছে ঋণী, আমাকে ভালোবাসার জন্য।

Advertisement