প্রতি বছরই দেখি, স্বাধীনতা দিবস (80th Independence Day) উপলক্ষে বড় বড় শপিং মলে অনেক ছাড়ের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সংবাদপত্রের পাতা জোড়া বিজ্ঞাপন থাকে, অডিও ভিজুয়াল মাধ্যমেও চটকদার বিজ্ঞাপন দেখা বা শোনা যায়। কোথাও দুটো কিনলে একটা ফ্রি, কোথাও তিনটে কিনলে দুটো ফ্রি। আজ অবধি মাথায় ঢুকল না, স্বাধীনতা দিবসের (80th Independence Day) সঙ্গে শপিং মলে ছাড়ের কী সম্পর্ক! স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন থেকেই শহরের সমস্ত বড় মলে সে কী ভিড়! আজ স্বাধীনতা দিবসের (80th Independence Day) পুণ্য তিথিতেও শহরের শপিং মলগুলোতে ভিড় উপচে পড়বে।
শুধু কি শপিং মলেই ভিড়? মদের দোকানে ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা নামতে না নামতেই লম্বা লাইন। রাত যত বাড়ে, ভিড়ও তত বাড়ে। অনেকে ১৪ আগস্ট মাঝরাতে আকন্ঠ মদ্য পান করে স্বাধীনতা দিবস (80th Independence Day) পালন করে। আজ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারলাম না, স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে শপিং মলে ছাড়ের কী সম্পর্ক, কিংবা স্বাধীনতা দিবসের (80th Independence Day) সঙ্গে মদের সম্পর্কই বা কতটা ঘনিষ্ঠ। আমাদের দেশের বরেণ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীরা কি ব্রিটিশ শাসকের কাছে কোনও ছাড় চেয়েছিলেন? কিংবা তাঁরা কি স্বাধীনতার যুদ্ধ করার সময় নিয়মিত মদ্য পান করতেন? এসব প্রশ্ন মনকে কেমন তাড়িয়ে বেড়ায়।
শপিং মলে যখন ভিড়, মদের দোকানে যখন লম্বা লাইন, তখন নেতাজিকে নিয়ে কুকথা বলা নিয়ে বাংলা তোলপাড়। কোচবিহারের কোন এক স্বঘোষিত মহারাজ নেতাজিকে গালমন্দ করে হিরো সাজার চেষ্টা করে কী বিপদেই না পড়েছেন। সেই স্বঘোষিত মহারাজকে আবার কেন্দ্রের শাসকদল রাজ্যসভার সাংসদ করেছে। বছরখানেক আগে বাংলার তখনকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আবার ওই স্বঘোষিত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দিয়েছেন।
বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদকে তৃণমূলী মুখ্যমন্ত্রী কেন ওই সম্মান দিতে গেলেন, কেউ জানে না। অনন্ত মহারাজ নামে পরিচিত এই রাজনীতিকের বিতর্কিত কথাবার্তা নিয়ে প্রায়ই মুশকিলে পড়তে হয় কেন্দ্রের শাসকদলকে। এবার আবার রাজ্যেও ক্ষমতায় এসেছে কেন্দ্রের শাসকদল। অর্থাৎ রাজ্যে এখন ডবল ইঞ্জিনের সরকার। সেই সরকার ভারী বিপাকে পড়েছে নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজ কু’কথা বলায়। সেই বিপাকে থেকে মুক্তি পেতে আসরে নামতে হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে(Suvendu Adhikari)।
তিনি (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছেন, নেতাজিকে নিয়ে যিনি বা যাঁরা বাজে কথা বলবেন বা তাঁকে অসম্মান করবেন, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। সে সাংসদ হন বা মন্ত্রী হন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) কারও নাম করেননি। কিন্তু তাঁর ইঙ্গিত যে অনন্ত মহারাজের দিকে, সেটা স্পষ্ট। অনন্ত মহারাজ অবশ্য একটা ছোট্ট ভিডিওতে বলেছেন, নেতাজি সম্পর্কে আমার কিছু অনিচ্ছাকৃত মন্তব্যে যদি কারও মনে আঘাত লেগে থাকে, তার জন্য আমি দুঃখিত। তবে তাতেও নেতাজি ভক্তদের ক্ষোভ কমেনি। আপামর বাঙালি তো বটেই, বিজেপির অনেক শীর্ষ নেতাও অনন্ত মহারাজের উপর ক্ষিপ্ত। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় অবিলম্বে অনন্ত মহারাজের গ্রেপ্তারির দাবি জানিয়েছেন।
তাঁকে দল থেকে তাড়ানোর দাবিও তুলেছেন তথাগত। ইতিমধ্যে অনন্তের বিরুদ্ধে বহু জায়গায় এফআইআর হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে আবার খোদ কলকাতা শহরের নিউ আলিপুরে নেতাজির একটি মূর্তির হাত কে বা কারা ভেঙে দিয়েছে। বুঝুন অবস্থা। এদিকে এবার দেখলাম, রাজ্যে স্বাধীনতা দিবস (80th Independence Day) পালনের ঝোঁক যেন বেশ বেড়ে গিয়েছে। রাস্তার ধারে প্রচুর অস্থায়ী দোকানে স্বাধীনতার পতাকা, তেরঙ্গা জামা, কাপড়, শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। সেই সব দোকান রাতারাতি গজিয়ে উঠেছে। একদিকে সরকার হকার উচ্ছেদ করছে। অন্যদিকে রাতারাতি গজিয়ে উঠেছে এই সব দোকান। এও এক স্বাধীনতা বটে।
রাজ্যে ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস (80th Independence Day) যখন তুমুল উৎসাহে পালিত হচ্ছে, তখন সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কালীঘাটের বাড়িতে হাত কামড়াচ্ছেন। তিনি ভেবেছিলেন, এবারও ভোটে জিতবেন। এবারও রেড রোডে রোড শোতে তিনিই থাকবেন মধ্যমণি হয়ে। কিন্তু সে আশায় ছাই পড়েছে। তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবার প্রাক্তন হয়ে গিয়েছেন। রেড রোডে কিংবা মহাকরণের সামনে আর এবার তাঁর স্বাধীনতার পতাকা তোলা হল না।