• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 4 October, 2026

বাবার জামা

‘নে, জামা প্যান্ট টি-শার্ট সবই তো হল, এবার আমার জাঙ্গিয়াটাও পরে নে।’—তুমি কী রকমের বাপ গো, নিজের মেয়ের সঙ্গে কেউ

বাবার জামা

‘নে, জামা প্যান্ট টি-শার্ট সবই তো হল, এবার আমার জাঙ্গিয়াটাও পরে নে।’
—তুমি কী রকমের বাপ গো, নিজের মেয়ের সঙ্গে কেউ এই রকমের কথা বলে? তাও ছোট মেয়ে নয়, ক্লাস ইলেভেন হল।
—মেয়ে যদি বাপের সব জামাকাপড় পরে নেয়, তখন বাপ আর কী বলতে পারে? তোমার কোনও জিনিস পরলেই তো কাঁইকাঁই করো।
—ঠিক আছে বাবা, আমার ঘাট হয়েছে, আমি তোমার জামা আর কোনও দিন পরব না।
—কেন পরবি না, একশো বার পরবি, হাজার বার পরবি, আমার জামা প্যান্ট গেঞ্জি জাঙ্গিয়া, যেটা মনে হয় সেটা পরবি। এবার থেকে আমার জন্যে কিনে আনা নতুন জামাও আগে তুই পরবি তারপর আমি পরব।
নতুন জামার প্যাকেটটা আলমারি থেকে বের করতেই কথাগুলো সঙ্গীতার মাথার ভিতরে হামলে পড়ল। মানুষটা আগের সপ্তাহেও এই প্যান্ট শার্ট নিয়ে মজা করে কত কৃত্রিম ঝগড়া করল। অথচ নিজের সব প্যান্ট শার্ট ফেলে কেমন ড্যাং-ড্যাং করে চলে গেল, পাঁচ দিন হয়েও গেল।
সঙ্গীতা গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া জলটা
মুছে নিল।
বিছানার উপরে রাখা ছোট ফোনটাও বেজে উঠল।
সঙ্গীতা ফোনটা তুলে দেখল, মা ফোন করেছে। একটু আগেই মা ঘাট কাজের কিছু জিনিস কিনতে বাজারে গিয়েছে। ঠাকুমাও নেই। মা বেরোনোর সময় সঙ্গীতা জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আমি তোমার সঙ্গে যাবো?’
মা বারণ করল, ‘তুই ঘরে থাক, তোর বন্ধু বান্ধবীরা আসছে, তোকেই তো চাইবে।’
কথাগুলো সত্যি। শুনে থেকে সব কিছু এই বন্ধু বান্ধবীরাই করছে। এমনকি রুমার বাবা সেদিন নিজে শ্মশানে গিয়ে সেখানকার সব খরচ খরচা সামলে নিয়েছিলেন। সঙ্গীতা ফেরত দিতে যেতে তার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘আগে সব ভালোভাবে মিটুক তারপর চিন্তা করব।’
পাশে সঙ্গীতার নিজের কাকুও দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তার নিজের কিছু করবার উপায় ছিল না। একটা ছোট গুমটির উপর কাকুর সংসার চলে, এই তো গতমাসে কাকুরও একটা ছেলে হয়েছে। কাকিমা এখনও তার বাবার বাড়িতেই আছে। ঘটনাটা শুনেই সঙ্গীতার মাকে ফোন করে আসার ব্যাপারে কথা বলতেই সঙ্গীতার মা বারণ করেছিল।
সঙ্গীতা আরেকবার চোখদুটো মুছে মায়ের ফোনটা ধরল।
‘বলরাম স্যার আসছেন, আমাকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করছিলেন। আমি দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের কথা বলেছি। একটু বেরিয়ে দেখবি।’
—ঘর কি চাবি দিয়ে যাবো?
—কেন তোর ঠাকুমা নেই?
—ঠাকুমার গায়ে হাতে ব্যথা করছে, পিন্টুকাকুর গুমটিতে ওষুধ আনতে গিয়েছে, আরো কী সব কাজ আছে বলল।
—ও। তাহলে এক্ষুণি চলে আসবে। না হলে শেকল তুলে বেরিয়ে আসবি।
বাবাও সেদিন কাকুর দোকান থেকেই সকালে ওষুধ এনেছিল, গ্যাসের ওষুধ, বাবা মারা যাওয়ার পরে খবরটা পিন্টুকাকুর মুখেই শুনেছিল। সঙ্গীতারা যেখানে থাকে সেখান থেকে কোনও হাসপাতাল বা ওষুধের দোকান অনেক দূর। টুকটাক জ্বর-পেট খারাপ হলে এই পিন্টুকাকুর গুমটি থেকেই ওষুধ এনে এই পাড়ার সবাই কাজ চালায়।
বাইরে বেরিয়ে মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল। সেই দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলটার পাশ দিয়েই যেতে হবে। প্রথম যেদিন খুঁটি পুজো করে বাঁশ পুঁততে আরম্ভ করেছিল সেদিন সঙ্গীতা তার বাবার সঙ্গে বাজার গিয়েছিল। কয়েকটা খাতা কেনার পর বাবার জন্যে দুটো শার্টও নিজে পছন্দ করে কিনেছিল। বাড়ি ফেরবার সময় বাবা এই প্যান্ডেল তৈরি হওয়া দেখে বলে উঠেছিল, ‘এবার চারদিনই বাইরে খাবো বুঝলি। তোর মা যদি না যায়, আমরা দু’জনেই খাবো।’
—মা কী করে যাবে, ঠাকুমা আছে।
—তোর মা তো বেরোতেই চায় না। একটু ঘুরে ঠাকুর দেখেই কত কথা বলে। সেবার মনে নেই! দুটো ঠাকুর দেখেই বাড়ি চলে আসতে হল। পরের দিন আবার তুই আর আমি গেলাম।
সব বার পুজোর চারদিন সঙ্গীতার বাবা তাদের সঙ্গে থাকতে পারে না। হয় পেশেন্ট নিয়ে চেন্নাই, ভেলোর বা ব্যাঙ্গালোর চলে যায়, অথবা কোনও স্টুডেন্টের ভর্তির ব্যাপারে ব্যস্ত থাকে। কোনও বাঁধাধরা কাজ না করলেও, এই সব পাঁচটা পাঁচরকম কাজ করে দিব্যি চালিয়ে তো নিচ্ছিল। সঙ্গীতার জন্যেও এইচএস-টা পাশ করলেই ব্যাঙ্গালোরে নার্সিং পড়বার একটা ব্যবস্থা করবার কথা ভেবেও রেখেছিল।
দিন যে কেমনভাবে পেরিয়ে যায় কিছুই বোঝা যায় না।
—বাবার প্রেসার ছিল নাকি?
—হ্যাঁ। অনিয়ম হত খুব, বিশেষ করে এই জুন, জুলাই, আগস্ট মাসগুলোতে তো প্রতি বছর অনিয়ম হোত। এবছর আবার আরও বেশি হল। কাকুর ছেলে হল, একটু ক্রিটিক্যাল ছিল। হাসপাতাল, বাড়ি, রাত জাগা এই সব মিলিয়ে মিশিয়ে কয়েকটা দিন ভালো বিশ্রাম নিতে পারেনি।
সঙ্গীতার চোখ দুটো আবার ভিজে উঠল।
—তোমাদের আশেপাশে কোনও ডাক্তার বসেন না?
—না। ডাক্তার বলতে সেই বাজার। আমাদের এমনি টুকটাক কিছু হলে সামনের পিন্টুকাকুর গুমটিতে চলে যাই। ওখানেই জ্বর বা পেট খারাপের ওষুধ রাখে। বাবাও সেদিন সকালে পিন্টুরকাকুর দোকান থেকে ওষুধ কিনেছিল।
—তার মানে সকাল থেকেই শরীর খারাপ ছিল।
—তিন চারদিন ধরেই বাবার শরীর খারাপ ছিল। তার উপরে প্রেসারের যে ওষুধটা খেত সেটাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। যে কোনও কারণেই হোক, বাবা কেনেনি। ভর্তি নিয়ে কয়েকদিন ধরেই ছোটাছুটি করছিল। সেদিন সকালে একটু দেরিতেই উঠল। মা জিজ্ঞেস করাতে বলল, ‘রাতে ভালো ঘুম হয়নি।’
মা টুকটাক আরও প্রশ্ন করল, উত্তর দিল। বাজারেও গেল।
এক সপ্তাহের তরকারি, দু’দিনের মাছ সব কিনে আনল। এর মাঝে পিন্টুকাকুর দোকান থেকে গ্যাসের ট্যাবলেটও কিনেছিল। সেটা অবশ্য আমরা পরে জানতে পারলাম। আসলে কিছু ছাত্রছাত্রীর নার্সিংয়ে ভর্তির ব্যাপার কথা বলতে বাবার এই সপ্তাহে ব্যাঙ্গালোর যাবার কথা ছিল। যেদিন ঘটনাটা ঘটল তার দু’দিন পরেই টিকিট করা ছিল। আমার কাকা গিয়ে ক্যানসেল করালো। সেদিন যদি যেতে পারত বাবা এখনও ব্যাঙ্গালোরেই থাকত।
বিছানাতে বসে শেষের কথাগুলো বলবার পরেই সঙ্গীতা নিজের ঠোঁটদুটো চেপে কিছু সময় বসে থাকল। উল্টো দিকের প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে থাকা মানুষটার ভেতর থেকে একটা লম্বা শ্বাস বেরিয়ে এসে জানান দিল, ‘আমিও তোর সমব্যথী। একটু যদি নিয়ম করে ডাক্তারটা দেখাতে যেতেন তা হলে হয়ত এই বিপদটা
হত না।’
বলরামস্যার কথাগুলো একটানে বলে দিলেন। সঙ্গীতা কিছু সময়ের জন্যে সব শুনে যাবার পর বলল, ‘আমি কিন্তু চেষ্টার কোনও ত্রুটি করিনি স্যার। রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা বাজবে, বাবার খাওয়া হয়ে গিয়েছিল, শুয়েও পড়েছিল। আমি আর মা খেতে বসেছিলাম। বিছানাতেই বাবা উঠে বসল। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী হচ্ছে গো?’ ভালো করে কথা বলতে পারল না। শুধু বুকের বাঁ দিকটা চেপে বসে থাকল। পাড়াতেই ভোম্বলকাকু থাকেন, অটো আছে। তাঁর বাড়ি গিয়ে ডেকে আনলাম। আরো দু’জন সঙ্গে গেল। অটোতেই বুঝতে পারলাম, আমার কোলেই ঢলে পড়ল।’
বলরামস্যার সঙ্গীতার গলার কাঁপুনিটা বুঝতে পেরে কিছু সময় চুপ থাকলেন। সঙ্গীতা কিছু বলতে যাচ্ছিল, সেই সময় তার মা ঘরে ঢুকল। বলরামস্যারকে দেখে কিছু সাধারণ কথা বলতেই স্যার বললেন, ‘সব কাজ মিটলে বেশি দেরি করাবেন না, ক্লাসে পাঠিয়ে দেবেন। ফিজিক্স তো, কামাই করলেই ওর পরে সমস্যা হবে। আর কোনও টিউশন ফি দিতে হবে না।’
সঙ্গীতা ও তার মা দু’জনের কেউ কোনও কথা বলল না। বলরামস্যার এরপরে পকেট থেকে একটা খাম বের করে সঙ্গীতার মায়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এটা ধরুন ওর ব্যাচের সব ছেলে মেয়েরা তুলেছে। আমি অল্পই দিয়েছি। আজ আমার সঙ্গে আরো কয়েকজনের আসার কথা ছিল। একটা মকটেস্ট আছে কোথাও, সেখানেই সব গেল। ওরা মনে হয় তোর কাছে এসেছিল?’
শেষের কথাগুলো বলরাম স্যার সঙ্গীতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
—ওরা প্রায় প্রতিদিনই আসছে, টাকাও দিয়েছে। ইংরেজি-বাংলা যে মিসের কাছে পড়ে সেই মিসও এসেছিলেন। এমনকি ওর এক বান্ধবীর বাবা শ্মশানের পুরো খরচটা দিয়েছেন। আসলে আমার দেওরের ছেলে হল, কিছু টাকা পয়সা দিতে হল। শাশুড়ির চোখ অপারেশন হল। একটা পুরানো স্কুটি কেনবার জন্যেও কিছু টাকা অ্যাডভান্সে কোথাও দিয়েছিল। সব মিলিয়ে একটু হাত খালি ছিলই। তারপরে আরো খালি করে দিয়ে চলে গেল। মেয়েটাকে খুব ভালোবাসত, দু’জনেই এক হাইট হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গীতা তো ওর বাবার শার্ট প্যান্ট পরে পড়তেও চলে যেত। এখানে থাকলে এই নিয়ে বাপ মেয়েতে দিনরাত কী যে করত, বলে বোঝাতে পারব না। আমি আর ওর ঠাকুমা পেরে উঠতাম না। আমার তো যা গেল, সেটা বাদ দিন, মেয়েটা যে কবে ঠিক হতে পারবে সেটাই ভেবে পাচ্ছি না।
বলরামস্যার কিছু সময় চুপ থেকে বললেন, ‘সময় মানুষকে সবসময় এই সময়ের সঙ্গে লড়াই করবার শক্তি দিয়ে দেয়, আপনি এই নিয়ে বেশি ভাববেন না, বরং কাজকর্ম সব মিটলে ওর পড়াশোনার উপর একটু বেশি জোর দিন।’
—হ্যাঁ সেটাই। ওর বাবার ইচ্ছে ছিল মেয়েকে নার্সিং পড়াবে। আমাকে এখন চেষ্টা করতে হবে। তবে একা আমি কতটা কী পারব সেটাই সন্দেহ। ওর বাবার তো এখন ব্যাঙ্গালোরে থাকবার কথা ছিল। বেশ কয়েকজনের ভর্তির ব্যাপার ছিল। এখন আমাদের সঙ্গে ওদেরও সমস্যা হয়েছে।
—আমি প্রতিমাসে পেমেন্ট পেয়ে যেতাম, তাই কোনোদিন কিছু জিজ্ঞেস করিনি। দাদা কি
কোনও কাজ…
—কাজ বলতে, পেসেন্ট নিয়ে বাইরের রাজ্যে চিকিৎসার জন্যে যেত, আর এই নার্সিং বা অন্যান্য কিছু কোর্সে ভর্তির ব্যবস্থা করত। চলে যেত বুঝলেন। কিছু টাকা জমিয়েও ছিল। কিন্তু এই কয়েকমাস এত খরচ হল, এখন হাত এক্কেবারে ফাঁকা।
—আমাকে ওর বন্ধু বান্ধবীরা সে কথা বলল।
স্যারেরও গলা থেকে একটা লম্বা শ্বাস মিসে গেল সেই ঘরের মধ্যকার বাতাসের সঙ্গে। কেমন যেন ভারি হয়ে গেল শরীরটা, ভালো লাগল না। সঙ্গীতা ও তার মায়ের উদ্দেশে বললেন,‘আমি তাহলে এখন আসি, পরে আবার চেষ্টা করব।’
সঙ্গীতাকে উদ্দেশ করে বলা তার মায়ের কথাগুলো বলরামস্যারের কানে গেল। ‘আজ আর প্রিয়ব্রত আসবে না?’
—না, ওর মায়ের শরীর ভালো নেই।
—এই রে, তাহলে তো সেই পরশু। একেই তো সাত দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখন গেলে আর ফেরত নেবে?
—বাজার যেতে হবে নাকি? বলরামস্যার জিজ্ঞেস করলেন।
—আর বলবেন না। মেয়ে সপ্তাহ দুই আগে ওর বাবার সঙ্গে বাজার গিয়েছিল। সেখানে নিজের জমানো টাকায় বাবাকে দুটো শার্ট আর একটা
টি-শার্ট কিনে দিয়েছিল। মেয়ের ইচ্ছে ছিল ব্যাঙ্গালোর যখন যাবে তখনই পরবে। ওর বাবা বলল, ‘না পুজোতেই ভাঙব।’ মাঝে দেখুন মানুষটাই চলে গেল। এখন হাতে টাকা পয়সার টান আছে। তাই বললাম, যদি বলে কয়ে এগুলো দোকানে ফেরত দিয়ে টাকাটা ফেরত পাওয়া যায়।
বলরামস্যার বিছানার কাছে এসে প্যাকেট থেকে জামা দুটো ও টি-শার্টটা বের করে নেড়েচেড়ে দেখে বললেন, ‘বাবা! চৌত্রিশ সাইজের, আমার হবে না, হলে আমি নিজেই নিয়ে দাম দিয়ে দিতাম।’
—সঙ্গীতার নিজেরও ইচ্ছে নেই। আসলে ওর বাবার হাতের ছোঁয়া লেগে আছে তো। নিজে পছন্দ করে কিনেছে, কিন্তু এখন এমন অবস্থা… ভদ্রমহিলা ফুঁপিয়ে উঠলেন।
—কেউ কি আসবে? তোকে বাজারে নিয়ে যাবে নাকি?
—হ্যাঁ স্যার। প্রিয়ব্রত আসবে বলেছিল। আমাদের স্কুলেই আর্টসে পড়ে, এখন আমার সঙ্গে বাংলা-ইংরেজি পড়ে। আজ সকালের দিকে একবার এসেছিল। আবার আসবার কথা ছিল। একটু আগে ফোন করে বলল, ওর মায়ের হাত কেটে গেছে হাসপাতাল নিয়ে যাচ্ছে, এ বেলাতে আসতে পারবে না। বিকালে কোথাও বেরোচ্ছি না। আসলে আমি মুখাগ্নি করেছিলাম তো, তাই এই সময় সবাই একা কোথাও যেতে বারণ করছে।
—ঠিক আছে, আমার বাইকে চল। আমি আবার তোকে নামিয়ে দিয়ে যাব।
কথাগুলো বললেও বলরাম বুঝতে পারলেন, সঙ্গীতার এই জামাগুলো ফেরত দেবার কোনও ইচ্ছে নেই, কিন্তু ওর মায়ের এই মুহূর্তে টাকার প্রয়োজন। দু’জনের মাঝে দাঁড়িয়ে বলরামস্যারের এই ঘরটাকে স্রোত মনে হল। একটা নৌকার একদিকে বসে সঙ্গীতা অন্যদিকে তার মা। এই উথাল পাথালের মধ্যে বলরামস্যার নিজেকে শুধু দর্শক ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারলেন না।