অনিতা পাফের নেতৃত্বে নেতাজি তদন্তে ক্রাইম সিন কন্ট্যামিনেশনের কাজ চলছে | জাপান থেকে এক মিথ্যে চিতাভস্ম নিয়ে এসে নিজের উত্তর প্রজন্মের জন্য ভারত সরকারের থেকে স্থায়ী অনুদান লাভের চেষ্টা চলছে | প্রখ্যাত চিন্তাবিদ শশী থারুর তার লেখা, An era of darkness গ্রন্থে ভারত থেকে ব্রিটেনের লুটকে বলেছেন – ‘Hypocrisy was added to brutality, while the robbery went on.’
নেতাজি (Subhas Chandra Bose) রহস্য প্রসঙ্গে ডাক্তার শিশির কুমার বসুর প্রোথিত মিথ্যা বসু পরিবারের অনেকেই আজও বহন করে চলেছে | অনিতার নেতৃত্বে আবার সেই ষড়যন্ত্র আর হিপোক্রেসি মাথাচাড়া দিয়ে উঠল| কোন মেয়ে চায়, তার বাবাকে হত্যা করতে? এত বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও সে চায়না বাবার অন্তর্ধানের তদন্ত হোক? তবে কি অনিতা ভারতে থাকতে চায়নি, ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে? ১১ বছর বয়স থেকে ভারতের জনগণের ট্যাক্সের টাকা দু’হাত ভরে নিয়ে আসছে | এদিকে তথাকথিত সুভাষচন্দ্রের জীবিত থাকার প্রমাণ একটা একটা করে নষ্ট হচ্ছে উত্তর প্রদেশে|
শ্রী মদনমোহন পাণ্ডে আজ রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের অন্যতম প্রধান ট্রাস্টি! অযোধ্যার এই প্রবীণ বরিষ্ঠ আইনজীবী ২৫ বছর ধরে (১৯৯৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত) আদালতে ‘রাম লালা বিরাজমান’-এর পক্ষে ঐতিহাসিক রাম জন্মভূমি আইনি বিবাদে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল (AAG) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৫১ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই আইনজীবীকে তাঁর অনন্য অবদান ও আইনি দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ট্রাস্টি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
বর্তমানে ট্রাস্টের একজন অন্যতম নীতি-নির্ধারক হিসেবে তিনি অযোধ্যার রাম মন্দির প্রাঙ্গণের সুষ্ঠু পরিচালনা, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা লক্ষাধিক দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজ তদারকি করছেন। কিন্তু এইসব পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে মদন বাবুর একটা পরিচয় রয়েছে |
উত্তরপ্রদেশে সুভাষ চন্দ্রের ভাই সুরেশচন্দ্র বসুর কন্যা ললিতা বসু যখন পিটিশন করে স্বীকার করলেন, ভগবানজির সমস্ত জিনিসপত্র আসলে রাঙাকাকাবাবুর ওরফে সুভাষচন্দ্রের, মদনমোহন পাণ্ডেই সেই রিট পিটিশন ফাইল করেছিলেন | মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি মদন বাবুর সঙ্গে চায় পে চর্চা করেন, তাহলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে ভগবানজি সুভাষচন্দ্র ছিলেন! অতীতে আমরা দেখেছি নেতাজি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইকে সুস্পষ্ট বক্তব্য রাখতে | তাহলে এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন?
আরও পড়ুন: গিরিশ মহাপাত্রের আড়ালে উত্তমকুমার
ললিতা বসুর রিট পিটিশনের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চ অর্ডার দিয়েছিল, সন্ন্যাসী সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে পৃথক মিউজিয়াম গড়ে তোলার | সেইমতো অযোধ্যায় রাম কথা সংগ্রহালয়তে সব জিনিসপত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা চলছিল | এরমধ্যে এল বিভীষণ হয়ে সহায় কমিশন | তারপর আবার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা | কি রয়েছে সেই জিনিসপত্রের মধ্যে যাকে সরকার বিরোধী তথা রাজনীতির রঙ্গমঞ্চের সমস্ত পক্ষই এতটা ভয় পায়? রয়েছে প্রমাণ!
৮ দশক ধরে নেতাজি সুভাষ চন্দ্রের (Subhas Chandra Bose) বিরুদ্ধে ঘটে চলা সমস্ত অপরাধের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ প্রমাণ। পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে সর্বতোভাবে মুখার্জি কমিশন এই সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছিল | রাজনীতির চাপে সেদিন চেয়ারম্যান জাস্টিস মনোজ মুখোপাধ্যায়ের উপরে যে প্রাণনাশের হুমকি ছিল, সে কথা কি প্রশ্নাতীত? আজ পর্যন্ত বাজপেয়ীজির আমলে তদন্ত যতদূর এগিয়েছিল, সম্পূর্ণটা প্রায় ধূলিসাৎ বসেছে | ১২ বছর হয়ে গেল তবু কি নেতাজি প্রসঙ্গে কথা রাখবে না সরকার?
পার্লামেন্টে কেন উঠছে না মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা? সম্প্রতি ২৮ শে সেপ্টেম্বর নেতাজির মিথ্যা কন্যা অনিতা পাফের আর্জির ভিত্তিতে সুপ্রিমকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, নেতাজি (Subhas Chandra Bose)অন্তর্দান প্রসঙ্গে তাদের অভিমত কি? এখানে যদি কেন্দ্রীয় সরকার সুস্পষ্টভাবে বিমান দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে প্রমাণ দাখিল করে, সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের চিফ জাস্টিস সুওমোটো ঘোষণা করে আবার তদন্ত কমিশন বর্ণ নির্দেশ দিতে পারে বলেই ধারণা হয়। যদি তা না হওয়া সম্ভব হয়, অন্ততপক্ষে মুখার্জি কমিশন নিয়ে আলোচনা যদি পার্লামেন্টে ওঠে নেতাজি অনুরাগীদের সামনে একটা বিরাট প্রেক্ষাপট রচিত হবে, সরকারকে আর্জি জানানোর, পরিস্থিতি খানিকটা তেমন হবে যেমন ছিল ১৯৫৫ সালে |
সরকারকে প্রয়োজন নেই, বেসরকারিভাবেই নতুন কমিশন গঠন করা হবে! ১৯৫৫ সালের মানুষ অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল, নেতাজি কি হলো তা জানতে শেষ পর্যন্ত যাবে | সেজন্যই টোকিও ট্রায়াল খ্যাত ডাক্তার রাধা বিনোদ পালকে সামনে রেখে নেতাজি অন্তর্ধান প্রসঙ্গে নতুন তদন্ত গড়ে তোলার প্রয়াস হয়েছিল | তাই দেখে রীতিমতো আতকে ওঠে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু | জাতীয় কংগ্রেসের ষড়যন্ত্রের মায়াজাল সুবিস্তৃত | ত্রিপুরী কংগ্রেসের আমলের সেই সংঘাত যেন আজও চলছে নিঃশব্দে! গান্ধীর অহিংসা নীতি রাজনীতিতে আজ কত দূর প্রাসঙ্গিক সেই নিয়ে তরজা চলতে পারে, কিন্তু সেদিনের গান্ধীবাদীরা কি আজ রূপান্তর ঘটিয়ে এখনো নেতাজির বিরুদ্ধে সক্রিয়?
নেতাজি প্রসঙ্গে বিভিন্ন গবেষকদের বিভিন্ন মত | বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মত সমর্থন করে প্রত্যেককেই আগস্ট মাসে ১৮ তারিখ যতজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নেতাজিকে স্মরণ করেন, গণআন্দোলনের স্তরে সামাজিক গণমাধ্যমে ওঠে প্রতিবাদ! দেশের মানুষ কি চায়, কান পাতলেই শোনা যায় | বর্তমান সরকার কি চায় সুপ্রিম কোর্টে তাদের বয়ানে স্পষ্ট হবে | তবে আবার যদি মিথ্যা চিতাভস্ম নিয়ে এসে তা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়, তাইওয়ান সরকারের ১৯৫৬ সালের তদন্ত রিপোর্ট আইনি পথেই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে | দল-মত নির্বিশেষে নেতাজি অনুরাগীরা বিপ্লবী লীলা রায়ের ভাষায় বলবে –
We shall not stand it!
যিশু খ্রিষ্টের মত বলতে ইচ্ছা হয়, ‘বাজপেয়ীজি, উনাদের ক্ষমা করো | উনারা নিজেরাই জানেন না, উনারা কিভাবে পন্ডিত নেহেরুর ইচ্ছা পূরণ করছেন! কংগ্রেসের আর প্রয়োজন নেই নেতাজির মিথ্যে চিতাভস্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য!’
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/YZXuUfHoK5Q?si=9eYFK0mSqmLeoGpg” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>