কলকাতায় বৃহস্পতিবার হয়ে গেল অ্যাসোচ্যামের ‘দ্য হেলথমিট অ্যান্ড এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এর ষষ্ঠ সংস্করণ। ‘দ্য ফিউচার অব হেলথ: হিউম্যান সেন্টার্ড এআই’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীতিনির্ধারক, শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। স্বাস্থ্য পরিষেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই মূলত আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক ড: ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যাল উদ্ভাবন, বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এআই-নির্ভর স্বাস্থ্য গবেষণার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে। তাঁর আশ্বাস, রাজ্য সরকার নৈতিক এআই পরিচালনা, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, দক্ষ কর্মী তৈরির প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের উপর বিশেষ জোর দেবে।
Advertisement
স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন ড: খাঁ। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আরও বেশি মানুষকে আনা হবে এবং দ্রুত এবিএইচএ (ABHA) কার্ড প্রদান করা হবে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, রোগীদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য হবে— সরকারি এবং বেসরকারি, দুই ক্ষেত্রেই।”
Advertisement
অনুষ্ঠানের সূচনায় অ্যাসোচ্যাম হেলথকেয়ার কাউন্সিল, পশ্চিমবঙ্গের চেয়ারম্যান দেবর্ষি দত্তগুপ্ত বলেন, সরকার ও শিল্পমহলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে যাতে এআই-এর সাহায্যে চিকিৎসকদের দ্রুত ও আরও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা যায়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবার বৈষম্য কমিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেন তিনি।
অ্যাসোচ্যাম হেলথকেয়ার কাউন্সিলের কো-চেয়ারম্যান ড: সোমব্রত রায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য পরিষেবা সরকার, শিল্প, স্টার্টআপ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের যৌথ উদ্যোগের উপর নির্ভর করবে বলেও মত তাঁর।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এআই-এর বর্তমান ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে একটি বিশেষ জ্ঞানভিত্তিক রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়। ‘AI in Healthcare – From Instinct to Inference’ শীর্ষক এই রিপোর্টটি অ্যাসোচ্যাম এবং প্রাইমাস পার্টনার্স যৌথভাবে তৈরি করেছে। রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, কীভাবে এআই এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য, সমতাভিত্তিক এবং শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
Advertisement



