• facebook
  • twitter
Monday, 18 May, 2026

খরচ কমানো ও দক্ষতা বাড়াতে সমস্ত দপ্তরকে কড়া নির্দেশ মুখ্যসচিবের

সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কাজ বা ‘ই-অফিস’ ব্যবস্থা চালু করা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব চিত্র

সরকারি খরচে লাগাম টানা, জ্বালানির অপচয় কমানো এবং প্রশাসনিক কাজে আরও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজ্যের সব দপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল নবান্ন। মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি কাজে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় সফর কমানো এবং ‘স্বদেশি’ পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৮ মে জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার, জ্বালানি সাশ্রয়, গণপরিবহণের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবনযাপনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের সমস্ত দপ্তর, সরকারি সংস্থা, নিগম, পর্ষদ, সরকারি অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের অফিসগুলিকে খরচ কমানো ও পরিষেবার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

Advertisement

নির্দেশিকায় সরকারি বৈঠক এবং পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সর্বাধিক ভিডিও কনফারেন্স ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কর্মদক্ষতায় প্রভাব না ফেলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় সফর কমিয়ে গণপরিবহণ, যৌথ গাড়ি ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কাজ বা ‘ই-অফিস’ ব্যবস্থা চালু করা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং ‘স্বদেশি’ উদ্যোগকে উৎসাহিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে এই নির্দেশিকায়। এছাড়া বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভোজ্য তেল ব্যবহারের মতো দীর্ঘস্থায়ী জীবন-যাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনকে ২০২৬–২৭ সালের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। সেখানে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও সম্ভাব্য ফলাফল উল্লেখ করতে হবে। আগামী ২২ মে-র মধ্যে সেই রিপোর্ট মুখ্যসচিবের দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে প্রোগ্রেস রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব, সচিব এবং জেলাশাসকদের এই বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement