বৃহস্পতিবার সকালে থেকেই রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তর এবং বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। খবর পাওয়া মাত্রই প্রথমে বাড়িতে এবং পরে অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে বেরিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির বিরুদ্ধে তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশলের তথ্য ‘ট্রান্সফার’ করার অভিযোগ তুললেন মমতা।
তাঁর মতে ইডির এই হানা ‘অপরাধ’। রাজ্যে এখন এসআইআরের কাজ চলছে। সেই সংক্রান্ত তথ্যও ‘ট্রান্সফার’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। এর পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশান করেন। এসআইআরের শুনানিতে সাধারণ মানুষ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে ফের অভিযোগ তুলেছেন। সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস যে ভবনে রয়েছে, তার বেসমেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা। কথা বলে আবার ঢুকে পড়েন দপ্তরে।
Advertisement
সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ির মতোই আইপ্যাকের অফিস থেকেও ফাইলের গোছা নিয়ে বেরিয়ে আসেন পুলিশকর্মীরা। তার পরে সেখান থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বলেন, ‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। লড়াই করার সাহস হচ্ছে না, এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে।’ বিজেপিকে নিশানা করেন বলেন, ‘বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখনি।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘ভোর থেকে অপারেশন চালু করেছে। সকাল ৬টার সময়ে এখানে শুরু হয়েছে। আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে মেনে নেব না।’ তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এর পরে বলেন, ‘আমি যদি বিজেপির পার্টি অফিসে হানা দেওয়াই? সেটা ঠিক হবে?’ ইডি অভিযান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকালে রাজ্যজুড়ে সব ব্লকে মিছিল, ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল হবে লুটের বিরুদ্ধে।’
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী আবার অভিযোগ করে বলেন, ‘পার্টির কাগজপত্র নিয়ে চলে গিয়েছে। টেবিলগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে।’ কেন এই অভিযান হয়েছে, সেই প্রশ্নের জবাব মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন খবর পেলাম যে এজেন্সি এসেছে, তখন খোঁজ নিলাম কেন এসেছে? তার পর শুনি আমাদের দলের ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি লুট করতে এসেছে। এটা গণতন্ত্রে হতে পারে না। পার্টি অফিসে ঢুকে এটা করা যায় না। তার পর আমি আসার সিদ্ধান্ত নিই।’
কর্ণধারের বাড়ি থেকে বেরোনোর পরেও মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল। আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি।‘প্রতীকের বাড়ির সামনে থেকেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে বলেছিলেন, ‘উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। ওরা হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল।‘
Advertisement



