তারাতলা দুর্ঘটনায় স্বজনহারাদের কান্নার রোল এসএসকেএমে, চলছে পরিবারের সদস্যদের খোঁজও

তারাতলা থানা এলাকায় বুধবার দুপুরে নির্মীয়মান গোডাউনের লোহার শেড ভেঙে পড়ে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গুরুতর জখম হয়েছেন ১৮ জন। বর্তমানে তাঁরা এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে দুর্ঘটনার পর এসএসকেএমে দু’রকম চিত্র প্রকাশ্যে এল। একদিকে কিছু মানুষ নিজের পরিবারের সদস্যের জন্য এসএসকেএমে এসে খোঁজ চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় কাছের মানুষকে হারিয়ে এসএসকেএমেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

জানা গিয়েছে, বছর আটত্রিশের খালেক সর্দার বাসন্তীর বাসিন্দা। গত চার-পাঁচ মাস ধরে তিনি তারাতলার ওই গুদামে পাইপলাইনের কাজ করছিলেন। তাঁর সঙ্গে আরও চারজন সেখানে কাজ করতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারের সামনে এসে খোঁজ শুরু করেছেন খালেকের শ্যালক ইদ্রিস আলি। কিন্তু খালেক সর্দারকে এখনও খুঁজে পাননি ইদ্রিস। খালেকের পাশাপাশি বাকি চার জনেরও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, আহতদের তালিকায় খালেকের নাম নেই। অন্যদিকে মৃতের তালিকায় নাম রয়েছে কৃষ্ণ চৌধুরী(৩০)-র। তিনি কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা। মৃতের তালিকায় ভাইয়ের নাম দেখে দিদি সীমা চৌধুরী এসএসকেএমে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানা গিয়েছে, তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃত কৃষ্ণ চৌধুরী ভাটপাড়া রিলায়েন্স জুট মিলে কাজ করতেন। মাস ছয়েক আগে ছাঁটাই হওয়ার পরে তারাতলায় পাইপলাইনের ওয়েল্ডিং-এর কাজ করছিলেন। তিনি সংসারের এক মাত্র রোজগেরে। তাঁর ভাই সরবান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এখনও দেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ সমস্ত নথি তৈরি করে রাখতে বলেছে।’


হাসপাতাল সূত্রের খবর, তারাতলা দুর্ঘটনায় জখম রাজেশ রুইদাসকে সিসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মহিলা রোগী বোদান মুন্ডার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়াও দু’জনের মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তবে এখনই কারও অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।

তারাতলা দুর্ঘটনা কাণ্ডে মোট পাঁচটি স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। প্রথম স্তরে হবে উদ্ধারকাজ এবং চিকিৎসা। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে ভগ্নাংশ পরিষ্কারের কাজ। সেখানে আর কেউ আটকে রয়েছে কিনা সেটা দেখা হবে। তৃতীয় স্তর থেকে শুরু হবে তদন্ত। সেই তদন্তের আওতায় থাকবে তিনটি বিষয়। প্রথম বিষয়ের মধ্যে থাকছে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল? দ্বিতীয় বিষয় হল যে জমির উপরে নির্মাণ কাজ চলছিল সেই জমির ধারণ ক্ষমতা কতটা?  আর তৃতীয় বিষয়টি হল নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগতমান। পরবর্তীতে দেখা হবে এই দুর্ঘটনার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না। তারপরে এই তদন্ত শেষ হলেই শুরু হবে দোষীদের চিহ্নিতকরণ ও শাস্তির কাজ।

সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের নজর এখন বেহেরা ব্রাদার্সের দিকে। দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের কারোর সন্ধান না মিললেও জোরকদমে তাদের খোঁজে কলকাতার গোয়েন্দা পুলিশ। এর পাশাপাশি নজর রয়েছে এআর ট্রেডার্স নামে একটি সংস্থার উপরে। বেহেরা ব্রাদার্স নির্মাণ কাজ করানোর জন্য এআর ট্রেডার্সকে বরাত দেয়। সেই চুক্তিতে কি ছিল সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।