শুক্রবারের পর শনিবারও অশান্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। ঝাড়খণ্ডের পর এবার বিহার। আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের উপর মারধরের অভিযোগ তুলে শনিবার বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় অবরোধ করেন কয়েকশো মানুষ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কও অবরুদ্ধ করা হয়। এদিন অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
অবরোধকারীদের দাবি, শুক্রবার বিহারের ছাপরা এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক আনিসুর শেখকে বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্থা করা হয়। বেধড়ক মারধরে তাঁর বুকের হাড় ভেঙে যায়। সেই খবর গ্রামে আসতেই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। আহত পরিযায়ী শ্রমিক গ্রামে ফিরলে আ্যম্বুল্যান্স করে তাঁকেও অবরোধস্থলে আনা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন আনিসুর।
Advertisement
শনিবার সকালে বিক্ষোভকারীরা বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটেও ভাঙচুর চালান। ভেঙে ফেলা হয় স্টেশনের কাছে থাকা রেলের সিগনাল। এর ফলে শনিবারও সেখানে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা পর্যন্ত আপাতত বন্ধ ট্রেন চলাচল। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলিন্দ কে দেউস্কর জানিয়েছেন, বেলডাঙার পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী (আরপিএফ, আরপিএসএফ) পাঠাচ্ছেন তাঁরা। নতুন করে উত্তেজনার খবর পেয়ে বেলডাঙায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল সংখ্যক পুলিশও।
Advertisement
বেলডাঙায় অশান্তির সূত্রপাত হয় শুক্রবার সকালে। ঝাড়খণ্ডে নিহত হন বছর ৩৬-এর পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দনিন শেখ। বাড়ি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুরের তালপাড়ায়। প্রায় পাঁচ বছর আগে কাজে সন্ধানে ঝাড়খণ্ডে যান আলাউদ্দিন। সেখানে তিনি ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। শুক্রবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ভাড়া বাড়ি থেকে। পরিবারের অভিযোগ, আলাউদ্দিনকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, বাংলার শ্রমিক হওয়ার অপরাধেই ভিনরাজ্যে গিয়ে তাঁকে হেনস্থা ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে।
পরিবার সূত্রে খবর, মৃত্যুর দু’দিন আগেও আলাউদ্দিন ফোন করে আতঙ্কিত স্বরে কথা বলেন এবং হেনস্থার কথা জানান। গ্রামে গ্রামে ফেরি করতে গিয়ে তাঁকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।আধার কার্ড দেখালেও পরিস্থিতি বদলায়নি। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়, তারপরই বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল।
শুক্রবার ওই পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ গ্রামে ফেরে। তার পরেই দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি চেয়ে শুক্রবার পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করা হয়। শুক্রবার প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী। ভাঙচুর চলে বেলডাঙার রাস্তায় থাকা ট্রাফিক কিয়স্কে। ভাঙা হয় পুলিশের গাড়ি। ইটের ঘায়ে অন্তত ১২ জন জখম হন।
শুক্রবার পরিস্থিতি সামাল দিতে রাস্তায় নেমেছিলেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া। জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কন্ট্রোলরুম চালু করার কথা জানান তিনি। কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে জেলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে বলে জানান তিনি। উত্তেজিত জনতাকে প্ররোচনায় পা না-দেওয়ার অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।মৃতের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি। এই ঘটনার বিচার হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তার পরেও আর এক পরিযায়ী শ্রমিককে মারধর করার অভিযোগ উঠল। পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ তুলে শনিবার নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হল বেলডাঙায়।
Advertisement



