শুভম বসু
ভোটের আগে অস্বস্তিতে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় এখনও নিজের নাম না থাকায় বৃহস্পতিবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ জানালেন তিনি। এই ঘটনাকে ঘিরে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়েই বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
Advertisement
সূত্রের খবর, তালিকায় নাম না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মনে সংশয় দেখা দিয়েছে— আদৌ তিনি মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন কি না। যদিও প্রকাশ্যে এই নিয়ে বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি তিনি। তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভোটের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবুও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, শশী পাঁজা তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রার্থী হিসেবে এ বার তাঁর চতুর্থবার নির্বাচনে লড়াই করার কথা। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় এই মুহূর্তে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ২,৭০০টি নাম এডজুডিকেশনের আওতায় ছিল, যার মধ্যে শশী পাঁজার নামও ছিল। কমিশনের দাবি, ওই সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে এখনও সব নথিতে ই-সাইন সম্পূর্ণ না হওয়ায় চূড়ান্ত তালিকায় কার নাম থাকবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন উঠছে— সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর কত দ্রুত এডজুডিকেশনের আওতায় থাকা নামগুলি চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত করা হবে। যদি শেষপর্যন্ত তালিকায় তাঁর নাম না থাকে, তবে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করার সময়সীমাও প্রায় শেষের পথে। ফলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই এখন এগোতে হচ্ছে তাঁকে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই অনিশ্চয়তা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন বর্তমান মন্ত্রীর নাম নিয়েই যখন এমন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তখন সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা কতটা প্রকট হতে পারে— সেই প্রশ্নও জোরালো হচ্ছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
Advertisement



