রাজনৈতিক দিক থেকে বীরভূম জেলাকে উত্তেজনাপূর্ণ জেলা হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই এ জেলায় যে কোনও ভোটেই বোমাবাজি, গুলি ও খুনের ঘটনা ঘটে থাকে। এটাই জেলার স্বাভাবিক ভোট-চিত্র হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে, এখারকার ভোটাররা স্বাভাবিকভাবে নিজেদের ভোট নিজে দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চায়েত ভোট প্রহসনে পরিণত হয়েছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলার সবকটি পুরসভার ক্ষমতা দখল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কিন্তু এবারের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে অন্যান্য জায়গার সঙ্গে নজিরবিহীন ভোট দেখেছে বীরভূম জেলার মানুষ। ভোটের দিনে জেলায় সংঘর্ষ, বোমাবাজি থেকে শুরু করে কোথাও কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। জেলার ১১ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬টি দখল করেছে বিজেপি। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটপর্ব সম্পন্ন হওয়ার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।
Advertisement
আর এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে পুলিশ প্রশাসন। তাই বৃহস্পতিবার ২৮ মে সিউড়িতে জেলা পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদবকে ধন্যবাদ জানাতে এলেন বিজেপির বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরে সৌমিত্র খাঁ বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন–কোনও নির্বাচনেই এ জেলার মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারেননি। সর্বদাই এখানে গণতন্ত্র লুণ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এবার পুলিশ প্রশাসন কঠোরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটপর্ব সম্পন্ন করছেন। আর এজন্যই তিনি জেলা পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানালেন।
Advertisement
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেই এখন অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও পদাধিকারীদের দুর্নীতির অভিযোগগুলি সামনে আসছে এবং অনেকেই পদত্যাগ করছেন এবং গ্রেপ্তারও হচ্ছেন। এ সম্পর্কে সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, তাঁরা তাঁদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের পদাধিকারী এতো টাকা চুরি করেছেন যে, তা তাঁকে বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে রাখতে হয়েছে। এমন দৃশ্য আগে কখনও মানুষ দেখেননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এদিন সৌমিত্র খাঁ জেলার বিজয়ী বিধায়ক ও দলীয় পদাধিকারীদের সাথে সিউড়ী ও বোলপুরে সাংগঠনিক বৈঠকও করেন।
Advertisement



