‘একেন বাবুর মাথায় চুল গজালেও গজাতে পারে, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস আর কোনও দিন এ রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। তৃণমূল এখন অতীত। নতুন জমানায় মানুষ প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারবেন।’ রবিবার ফলতার দলীয় প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারে এই ভাষাতেই তৃণমূলকে বিঁধলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পাশাপাশি স্বভাবসিদ্ধ ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিমায় বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এর আগে শনিবার ফলতার মাটি থেকেই তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।
আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। সে কারণে দলীয় প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার হয়ে প্রচারে এসেছিলেন শমীক। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার অন্তর্ভুক্ত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক। তাই দলীয় প্রার্থীর প্রচারে অভিষেককে নিশানা করেন তিনি। শমীক বলেন, ‘যিনি ৪ জুন রাতে ডিজে বাজানোর কথা বলেছিলেন, তিনি এখন কোথায়? যিনি কার কোন দিল্লির বাবা আছে বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি এখন কোথায়? এখন ডিজের বদলে তৃণমূল নেতাদের ঘরে ঘরে বিষাদের হারমোনিয়াম বাজছে। মাননীয় বীরবাবু, আপনাকে আমরা খুব মিস করছি। এভাবে লুকিয়ে না থেকে একটু সামনে আসুন। একবার অন্তত দিল্লি গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করুন।’ অভিষেককে কটাক্ষ করে আরও বলেন, ‘পুলিশ নেই, তাই নেতা নেই। কনভয় নেই, তাই হুঙ্কার নেই। আমরা বলছি, আপনি ফলতায় আসুন, প্রচার করুন। আমাদের কর্মী-সমর্থকরা ফুল নিয়ে, শাঁখ বাজিয়ে আপনাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।’
Advertisement
একই সঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে নেতা, মন্ত্রী ও প্রশাসন একাকার হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ ও প্রশাসনকে দলদাসে পরিণত করা হয়েছিল। সর্বত্র দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানির খেলা চলতো। মানুষ আতঙ্কে মুখ বুজে থাকতো। মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছিল। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিজেপি কর্মীরা লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। দুর্নীতি ইস্যুতেও তৃণমূলকে নিশানা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, ‘পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে একেবারে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। দোষ প্রমাণ হলে জেলে যেতে হবে। তবে সেই তালিকা এত বড় যে দু’টো জেলাকে জেল হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। না হলে নতুন করে জেলের জন্য সরকারি জমি খুঁজতে হবে।’
Advertisement
এদিনের নির্বাচনী প্রচারে শমীকের মুখে শোনা গিয়েছে শিল্পের কথা। শমীকের দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে আর পরিযায়ী শ্রমিকের জেলা হয়ে থাকতে হবে না। বিজেপি সরকার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। রুজির টানে কাউকে ভিনরাজ্যে যেতে হবে না। ফলতায় যে সমস্ত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেই কারখানাগুলি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ওড়িশায় যেভাবে শিল্প গড়ে উঠছে, ঠিক সেভাবেই বাংলাতেও নতুন শিল্প আসবে এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থান হবে।
ফলতা থেকে রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বিজেপির রাজ্য সভাপতির বার্তা, ‘এখনও যাঁরা আক্রমণ করার ঔদ্ধত্য দেখাছেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের কোনও বিরোধ নেই। এই দেশটাকে নিজের দেশ বলে মনে করুন। বিজেপি আপনাদের পাশে আছে। যাঁরা বাড়াবাড়ি করছেন তাঁদের অনুরোধ, আমাদের বাধ্য করবেন না আপনাদের ভাষায় কথা বলতে।’ বিজেপি সভাপতি আশাবাদী, এবার ফলতা আসনেও পদ্ম ফুটবে। দলীয় প্রার্থী সোয়া লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হবেন।
Advertisement



