প্রথম দফার নির্বাচন শুরু হতে আর এক মাসেরও কম সময় বাকি। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে রাজ্য জুড়ে বিধানসভাভিত্তিক নির্বাচন কমিটি গঠন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দলীয়ভাবে একাধিক তালিকা প্রকাশ করে বিভিন্ন জেলার বিধানসভা কেন্দ্রগুলির জন্য এই কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, বিভিন্ন জেলায় দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল সামাল দিতেই কি এত বড় আকারের কমিটি গঠন করা হল—তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক প্রয়োজনেই নেওয়া সিদ্ধান্ত। এর আগেও একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে একইভাবে ভোট পরিচালনার জন্য কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
Advertisement
জেলা অনুযায়ী বিভিন্ন বিধানসভায় কমিটির সদস্যসংখ্যাও বেশ বৈচিত্র্যময়। যেমন, বাঁকুড়ার শালতোড়ায় ২৯ জন, ছাতনায় ২০ জন, রানিবাঁধে ৩৬ জন এবং বাঁকুড়া কেন্দ্রে ব্লক ও টাউন মিলিয়ে ৬০ জন সদস্য রাখা হয়েছে। বীরভূমে সিউড়িতে ১৭ জন, বোলপুরে ১১ জন এবং রামপুরহাটে ৫২ জন সদস্য নিয়ে কমিটি গঠিত হয়েছে। একইভাবে নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর ও হাওড়া জেলার বিভিন্ন বিধানসভাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
Advertisement
এই বড় আকারের কমিটি গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি বুথ থাকে এবং প্রতিটি বুথে প্রায় ১৫ জন করে কর্মী কাজ করেন। সেই হিসেবে একটি বিধানসভায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মী ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। পাশাপাশি অঞ্চল, ব্লক ও জেলা স্তরের সংগঠনও সক্রিয় থাকে।
তাই ভোট পরিচালনাকে আরও সুষ্ঠু, সমন্বিত এবং কার্যকর করতে বিধানসভার প্রতিটি অংশ থেকে প্রতিনিধি নিয়ে এই কমিটিগুলি গঠন করা হয়েছে। দলের মতে, এর মূল লক্ষ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন ও সুসংগঠিত রাখা, কোনও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নয়।
Advertisement



