রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তুলতে রাজ্যের শীর্ষস্তরের আধিকারিকদের বিভিন্ন জেলায় ও এলাকায় মোতায়েন করা হচ্ছে। রাজ্যের পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান দপ্তরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুসারে, রাজ্যের একাধিক আইএএস ও ডব্লিউবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) স্তরের আধিকারিককে নির্দিষ্ট জেলা ও এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’, ‘পথশ্রী’ সহ রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নিয়মিতভাবে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং নিজ নিজ জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন।
Advertisement
এই নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন আইএএস আধিকারিককে যে জেলা ও এলাকায় নিযুক্ত করা হয়েছে, সেগুলি হল- দক্ষিণ কলকাতায় রাজেশ কুমার সিনহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ওঙ্কার সিং মিনা, পশ্চিম বর্ধমানে বন্দনা যাদব, মুর্শিদাবাদে পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকি, মালদায় ছোটেন ডি লামা, উত্তর কলকাতায় শান্তনু বসু, নদিয়ায় ড. পিবি সেলিম, দার্জিলিং (শিলিগুড়ি বাদে)ও কালিম্পং-এ ড. সৌমিত্র মোহন, বাঁকুড়ায় পি মোহন গান্ধী, পুরুলিয়ায় সঞ্জয় বনশল, পূর্ব বর্ধমানে সুভাঞ্জন দাস, হুগলিতে অন্তরা আচার্য, হাওড়ায় শরদ কুমার দ্বিবেদী, উত্তর ২৪ পরগনায় ড. পি উল্গানাথন, ঝাড়গ্রামে কৌশিক ভট্টাচার্য, পশ্চিম মেদিনীপুরে পবন কাদিয়ান, শিলিগুড়ি মহকুমায় রাজর্ষি মিত্র, দক্ষিণ দিনাজপুরে চৈতালী চক্রবর্তী, পূর্ব মেদিনীপুরে ড. রজত নন্দা।
Advertisement
এছাড়া যে সব ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের বিভিন্ন জেলায় নিযুক্ত করা হয়েছে তাঁরা হলেন বিধানচন্দ্র রায় কোচবিহারে, পূর্ণেন্দু কুমার মাঝি বীরভূমে, সুনীল আগরওয়ালাকে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে এবং তনভির আফজলকে উত্তর দিনাজপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই আধিকারিকদের মূল দায়িত্ব হবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে সময়মতো পৌঁছচ্ছে কি না এবং কোনও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে তা দ্রুত সমাধান করা। পাশাপাশি, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সমস্যার দ্রুত সমাধান ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্য সরকার জেলা স্তরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে তুলতে চাইছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে যাতে কোনও গাফিলতি না করা হয় সেদিকে জোর দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।
সরকারি মহলের মতে, এই মোতায়েন কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজ্য সরকারের উন্নয়ন দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন—যেখানে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিকে একসূত্রে বেঁধে ফেলা হচ্ছে। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
Advertisement



