রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার পূর্ব মেদিনীপুরেও ঘটল ঐতিহাসিক ক্ষমতার হস্তান্তর। দীর্ঘ কয়েক দশকের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের দখল নিল বিজেপি। সোমবার জেলা পরিষদের সতীশচন্দ্র সামন্ত সভাকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হলেন বিজেপির বামদেব গুচ্ছাইত। একইসঙ্গে নতুন সহ-সভাধিপতি নির্বাচিত হয়েছেন পূর্ণিমা দাস।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর নৈতিক বিপর্যয়ের দায় নিয়ে সম্প্রতি জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূলের উত্তমকুমার বারিক। ইস্তফা দেন সহ-সভাধিপতি সুহাসিনী করও। তারপরই সোমবার নতুন বোর্ড গঠনের জন্য সাধারণ সভা ডাকা হয়। সেখানেই ঘটে এই ঐতিহাসিক ক্ষমতার বদল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের মোট আসন ৭০টি। যার মধ্যে তৃণমূল ৫৬, বিজেপি ১৪ (২ জন সদস্যের মৃত্যু হওয়ায় এখন আসন সংখ্যা ৬৮)। আজকের সাধারণ সভার ৬৪ জন সদস্য সর্বসম্মতিতে প্রস্তাব পাশ করে।
সোমবারের বিশেষ সাধারণ সভায় নাটকীয়ভাবে কোনও ভোটাভুটি ছাড়াই সর্বসম্মতিতে নতুন সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়। জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুচ্ছাইতের নাম সভাধিপতি পদের জন্য উত্থাপন করেন জয়দেব মিদ্যা। সভায় উপস্থিত সমস্ত সদস্যই এই প্রস্তাব সমর্থন করেন। এদিকে সহ-সভাধিপতি পদের জন্য পূর্ণিমা দাসের নাম প্রস্তাব করেন বাঁশুরি পণ্ডিত। সেটিও সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়।
অন্যদিকে এরপরেই নবনির্বাচিত সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতিকে সভাকক্ষেই উত্তরীয় ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। জেলা পরিষদের বাইরে তখন গেরুয়া আবির, আতসবাজি আর ঢাক-ঢোলের আওয়াজে বিজয় উৎসবে মাতেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। উপস্থিত ছিলেন কাঁথির সাংসদ তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার পর তিনি বলেন, ‘এখন আর ডবল ইঞ্জিন নয়, জেলাজুড়ে এবার চলবে পঞ্চম ইঞ্জিন (কেন্দ্র, রাজ্য, জেলা পরিষদ, সাংসদ এবং বিধায়ক)। এই পঞ্চমুখী শক্তির মেলবন্ধনেই এবার জেলায় প্রকৃত উন্নয়ন থমকে থাকবে না।‘
তাছাড়া নবনির্বাচিত সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বিরোধী দলনেতা হিসাবে কাজ করে এসেছেন। এখন তাঁর উপরে গুরুদায়িত্ব আসার পর বামদেবের প্রতিক্রিয়া, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে পথ দেখাবেন সেই পথেই এগিয়ে সকলকে নিয়ে জেলার উন্নয়ন ঘটবে।’ আর তৃণমূলের প্রাক্তন খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তমালতরু দাস মহাপাত্র জানান, ‘রাজ্যজুড়ে উন্নয়নের পথে আমরাও চাই জেলায় উন্নয়ন হোক।’




