• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

নয়াদিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা বদল করল তৃণমূল, মহানগরীতেও চাপ ঘাসফুলের

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাংলোর একটি অংশে দলীয় কার্যালয় করা হয়েছিল

প্রতীকী চিত্র

সোনালি দিন আর নেই। এখন আবার বিরোধী আসনে বসতে হয়েছে। তাই চেনা মুখগুলিও এখন অচেনা হয়ে যাচ্ছে। যাদের কাছের মানুষ ভাবা হয়েছিল এখন তারাই সব থেকে বড় বিদ্রোহী। এমনকী দলকে চাপে রাখতে একে একে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। লোকসভার সাংসদরা পৃথক ব্লক তৈরি করেছেন। এমনকী বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়করা আসল তৃণমূল বলে সরে পড়েছেন। এই আবহে কলকাতায় মেট্রোপলিটন বাইপাসে অস্থায়ী তৃণমূল ভবন ছেড়ে দিতে নোটিস দেওয়া হয়েছে। আবার পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় নয়াদিল্লিতে দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা বদল করতে হলো তৃণমূল কংগ্রেসকে। সুতরাং একের পর এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে ঘাসফুল শিবিরে।

এদিকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিকের বাংলোর একটি অংশে দলীয় কার্যালয় করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তিনিই বিদ্রোহী হয়ে কাকলি ঘোষদস্তিদারদের শিবিরে পার্থ চলে গিয়েছেন। তাই নতুন কার্যালয় করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের বাংলোয়। এবার শুক্রবার সব গুছিয়ে ফেলা হয়েছে নাদিমুল হকের বাংলোয়। সদ্য রাজধানীতে পা রেখে ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন এই পরিস্থিতির কথা শুনেছিলেন। তাঁদের মতামত নিয়েই এই বাড়ি বদল হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে এই দলের কী হবে তা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজধানীর অলিন্দে। তৃণমূল কি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাবে? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্য কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা সেটাও স্পষ্ট হয়নি। এই বাড়ি বদল নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বেলেঘাটার বিধাযককে। তার জবাবে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘কখন কার বাংলোয় পার্টি অফিস থাকে, কখন কে দলে থাকেন, কখন কে বিদ্রোহী হন, কখন কে সুনজরে থাকেন, এসব বলা মুশকিল। তবে যাঁরা সুনজরে থাকেন, বড় নেতা হন তাঁরাই কেন বিদ্রোহী হন, এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তাছাড়া উত্তর পঞ্চান্ন গ্রামে ইএম বাইপাসের ধারের পুরনো তৃণমূল ভবন ভেঙে ফেলে নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। কলকাতায় ইএম বাইপাসের একটি পাঁচতলা বাড়িতে অস্থায়ী তৃণমূল ভবন হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। তখন ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে হারার পরই ওই বাড়ির মালিক মন্টু সাহা বেঁকে বসেন। মালিক মন্টু সাহার দাবি, একাধিকবার বলার পরও ওই ভবন খালি করছে না তৃণমূল। তাই প্রগতি ময়দান থানার দ্বারস্থ হন তিনি। পরে তৃণমূলের তরফেও থানায় গিয়ে কুণাল ঘোষ এবং রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একটি চিঠি দেন পুলিশকে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অস্থায়ী কার্যালয় হিসাবে মেট্রোপলিটনের ওই বহুতলটি ব্যবহার করছিল তৃণমূল। তবে খুব শীঘ্রই স্থানান্তর করা হবে।