ভেঙেই চলেছে তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য দলের অনেকেই এখন অভিযোগের আঙুল তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। একাধিক বিধায়ক পৃথক গোষ্ঠী করে বিধানসভায় রয়েছেন। ২০ জন সাংসদ যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই দলে। এই টালমাটাল আবহে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার জন্য ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সেখানে এক সপ্তাহের জন্য দেশের বাইরে যেতে আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে কয়েকবছর আগে মুর্শিদাবাদে দলীয় কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দুর্ঘটনায় চোখের নিচে গুরুতর আঘাত পান তিনি। তখন থেকেই চোখের সমস্যায় ভুগছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। শুরুতে দেশের একাধিক হাসপাতাল এবং পরে বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। এখন একাধিক মামলায় নাম জড়িয়েছে অভিষেকের। বিধানসভায় সই কাণ্ড থেকে শুরু করে ভোট প্রচারে গিয়ে উসকানিমুলক মন্তব্য নিয়ে সিআইডি নজরে আছেন তিনি। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যেই রক্ষাকবচ পেয়েছেন অভিষেক। তবে তাঁর বিদেশ যাত্রার উপর আছে কলকাতা হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা।
অন্যদিকে ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে এমনিতে কোনও বাধা নেই। তবে একাধিক বিচারাধীন মামলায় তাঁর নাম আছে। সেক্ষেত্রে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলেছে আদালত। এই আবহে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে আদালতের অনুমতি চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দেখার এই মামলায় আদালত অভিষেককে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয় কিনা? তিন বছর আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বিদেশে যাওয়ার আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে জানাতে হবে অভিষেক ও তাঁর স্ত্রী রুজিরাকে। চোখের চিকিৎসার জন্য তখনও বিদেশ যেতে চেয়ে ইডিকে চিঠি দিয়েছিলেন। অভিষেক সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিলেন, ইডির পক্ষ থেকে কোনও উত্তর আসেনি। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি পেয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি।
তাছাড়া উস্কানিমূলক মন্তব্য মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছে, আদালতের নির্দেশ ছাড়া তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। তারই প্রেক্ষিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ। চোখের চিকিৎসার জন্য তাঁর বিদেশে যাওয়া প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন। অনেকে মনে করছেন, মানবিক কারণে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ছাড়পত্র দিতে পারে আদালত। যদিও আসতে পারে বিরোধীতাও। বলা হতে পারে, চিকিৎসার নাম করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন সাংসদ।




