বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গেলেন বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পিকার কোন আইনে নির্বাচন করলেন, সেই প্রশ্ন তুলে এবার ডিভিশন বেঞ্চে গেলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচিত করেছেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দু’দিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে চলে মামলার শুনানি। তবে কে হবেন বিরোধী দলনেতা সেই নির্দেশ স্থগিত ছিল। তারপর বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের নির্দেশ, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেলেন ১০ বারের জয়ী বিধায়ক।
এদিকে শুক্রবার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, মামলা সংক্রান্ত নথি বিধানসভার অধ্যক্ষের আইনজীবী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীকে পাঠানো হলে তাঁরা নাকি সেই নথি গ্রহণই করেননি। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক যে চিঠি দিয়েছিলেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই দুই বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করার যে সিদ্ধান্ত পার্টির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সেটা বিচারাধীন রয়েছে আলিপুর আদালতে। আলিপুর আদালত আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তার উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা দাবি করেন যে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে। ওই দাবির ভিত্তিতেই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেননি বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। সবপক্ষকে তাঁদের বক্তব্যের স্বপক্ষে হলফনামা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আগামী ২৮ জুলাই আবার শুনানি করবেন বলে জানান তিনি। এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
তাছাড়া এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। এই মামলায় অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে অষ্টাদশ বিধানসভা গঠন এবং প্রথম অধিবেশন সম্পন্ন হওয়ার পরও কেন তাঁকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হল না? সেটা জানতে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) আগেই আবেদন করেছেন বালিগঞ্জ বিধানসভার প্রবীণ বিধায়ক। সেই আবেদন নিয়ে তিনি কোনও উত্তর পেয়েছেন কি না, সেটা জানাননি।




