• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 12 July, 2026

বৃদ্ধার জমি দখল করে পার্টি অফিস তৃণমূলের, ফেরতের ব্যবস্থা করলেন বিজেপি বিধায়ক

ওই বৃদ্ধার স্বামীও মারা গিয়েছেন। সেই সুযোগেই জমি নিয়ে পার্টি অফিস বানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ

বৃদ্ধার জমি দখল করে পার্টি অফিস তৃণমূলের, ফেরতের ব্যবস্থা করলেন বিজেপি বিধায়ক

BJP MLA Bankim Ghosh Photo-SNS

ক্ষমতায় থাকাকালীন নেতা-নেত্রীদের ঔদ্ধত্য, হম্বিতম্বি এবং চালচলন অন্যমাত্রা পেয়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তোলাবাজি থেকে শুরু করে দুর্নীতি এবং জমি দখল করার মতো ঘটনা ঘটাত স্থানীয় নেতারা বলে অভিযোগ। আর এভাবেই একজন বৃদ্ধার জমি দখল করে নিয়েছিলেন জেলার তৃণমূল নেতা বলে অভিযোগ। আর সেই জমিতে দলীয় কার্যালয় করে চালাচ্ছিলেন। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই পরিস্থিতিও বদলে যায়। সেই জেলার নেতা এখন গা-ঢাকা দিয়েছে। ওই জমিতে গড়ে ওঠা পার্টি অফিস এখন খোলার লোক নেই। এই আবহে বিজেপি বিধায়ক ওই বৃদ্ধাকে জমিটি উদ্ধার করে দিলেন।

জেলার ওই তৃণমূল নেতাকে বহুবার বৃদ্ধা বলেছিলেন, জমিটি ফিরিয়ে দিতে। বহু কাকুতি-মিনতিতেও কাজ হয়নি। জমি হারিয়ে গিয়েছে মনে করে চোখের জল ফেলতেন ওই বৃদ্ধা। আর অপেক্ষা করছিলেন সময় বদলের। সেই সময় হতেই জমি ফিরে পেলেন বৃদ্ধা। বৃদ্ধার জমি দখল করে পার্টি অফিস তৈরি করেছিল তৃণমূলের জেলার নেতা। রাজনৈতিক পালাবদল হতেই সেই জমি এবার বৃদ্ধাকে ফেরানোর ব্যবস্থা করলেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। পুরশুড়ার হারুয়া এলাকায় বিধায়ক দাঁড়িয়ে থেকে পার্টি অফিসের দরজার তালা খোলান। জমি ফিরিয়ে দেন। র তা পেয়ে প্রচণ্ড খুশি বৃদ্ধা-সহ তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

ওই জেলা তৃণমূলের নেতার নাম সামনে এখনও আসেনি। কারণ এখন তিনি গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। নাম প্রকাশ্যে নিয়ে আসলে সে সতর্ক হয়ে যাবে। তাই পুলিশের সুবিধার স্বার্থে নাম সামনে আনা হচ্ছে না। তবে ওই বৃদ্ধার দীর্ঘদিনের কষ্ট এবার সেটার অবসান ঘটল। ওই বৃ্দ্ধা জেলার নেতাকে বলেছিলেন, গরীবের ওই জমিটুকুই সম্বল। দয়া করে ছেড়ে দিলে অত্যন্ত উপকার হবে। ওই জমিতে চাষবাস করে সংসার চালাবেন বলেও জানিয়েছিলেন। তখন তাঁর কথায় কর্ণপাত করেননি ওই জেলা তৃণমূলের নেতা। সুতরাং জমির সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলা ছাড়া উপায় ছিল না বৃদ্ধার।

নিজ ভূমে পরবাসী হয়ে দিন কাটত ওই বৃদ্ধার। ওই বৃদ্ধার স্বামীও মারা গিয়েছেন। সেই সুযোগেই জমি নিয়ে পার্টি অফিস বানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই গোটা ঘটনা নিয়ে বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূল সাধারণ মানুষের জমি বাড়ি নিজেদের দখলে নিত। অন্যের জমিতে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলত। হারুয়ায় এক বৃদ্ধার জমি দখল করে পার্টি অফিস তৈরি করেছিল তৃণমূল নেতারা। ওই বৃদ্ধা বিষয়টি আমাকে জানাতেই আমরা ওই জমির নথিপত্র খতিয়ে দেখি। তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই জমি বৃদ্ধাকে ফেরত দেওয়া হবে। ওই বৃদ্ধাকে দখল হয়ে যাওয়া জমি ফেরত দেওয়া হয়েছে। মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।’ কলকাতার খিদিরপুরের বাসিন্দা বৃদ্ধা বিন্দু ধোলের দাবি, ‘বহু বছর আগে স্বামী ওই এলাকায় জমি কিনেছিলেন। স্বামী মারা গিয়েছে। তৃণমূল আমলে ওই জমি দখল করে পার্টি অফিস হয়। জমি ফেরত চেয়ে বারবার আর্জি জানালেও লাভ হয়নি। বিধায়কের উদ্যোগে জমি ফেরত পেয়ে আমি খুশি।’