উত্তরবঙ্গের রুগ্ন ও বন্ধ চা বাগানগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবার আসামের সফল মডেল অনুসরণের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চা শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, মন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা, মনোজ টিগ্গা-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জনপ্রতিনিধি এবং টি বোর্ডের আধিকারিকরা। সিদ্ধান্ত হয়েছে, টি বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল শীঘ্রই আসাম সফরে গিয়ে সেখানে শ্রমিক কল্যাণ, ন্যূনতম মজুরি এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের পদ্ধতি পর্যালোচনা করবে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই উত্তরবঙ্গে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে বরাদ্দ ৩১২ কোটি টাকা আগামী নয় মাসের মধ্যে খরচ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, শিক্ষার উন্নয়ন এবং গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের পুষ্টি সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বৈঠকে শ্রমিকদের বকেয়া বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সাংসদ রাজু বিস্তা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্রমিকদের প্রাপ্য বোনাস ও অন্যান্য পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে। এছাড়া চা বাগানের জমিতে পর্যটন প্রকল্প গড়ে তোলার পুরনো নীতি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। চা শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত লক্ষাধিক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর উত্তরবঙ্গবাসীর।




