‘চটি চাটা’ বনাম ‘বুট চাটা’! হাইকোর্টে কল্যাণ-এজি সংঘাত, পরিস্থিতি সামলাতে নামলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি

Image: SNS

মসজিদে মাইক ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে নজিরবিহীন উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) । কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)  ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে  তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবং রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ গড়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে (Calcutta High Court)।
শুনানির সময় কল্যাণের অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে অ্যাডভোকেট জেনারেল ‘চটি চেটে খায়’ বলে কুৎসিত মন্তব্য করেছেন। পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে কল্যাণ বলেন, ‘উনি তো শুভেন্দু অধিকারীর বুট চেটে খাওয়া অ্যাডভোকেট জেনারেল!’  দুই পক্ষের এমন বাক্যবাণে এজলাসের পরিবেশ কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:  গ্রেপ্তারির খাঁড়া মাথায়, হাইকোর্টেও ধাক্কা টুলুর! বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাস থেকে ফিরল মামলা
পরে আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও এজি-র বিরুদ্ধে একরাশ বিরক্তি ক্ষোভ উগরে দেন আইনজীবি তথা সাংসদ কল্যাণ  (Kalyan Banerjee)। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা বিভিন্ন মামলায় অপ্রাসঙ্গিক এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে সময় নষ্ট করছেন। সংবেদনশীল মামলাগুলিতে রাজ্য সরকার একের পর এক ধাক্কা খাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কল্যাণের  (Kalyan Banerjee) আরও অভিযোগ, মসজিদে মাইক সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের তরফে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই আদালতে আসা হয়েছে। মামলা ‘গ্রহণ যোগ্যতা’—এমন প্রাথমিক আপত্তি তুলে শুনানি বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মামলার (Calcutta High Court) সূত্রে জানা গিয়েছে, হুগলির শ্রীরামপুর, রিষড়া, চাঁপদানি, ভদ্রেশ্বর-সহ বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার জন্য পুলিশ মৌখিক নির্দেশ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪,০০০ লাউড স্পিকার খুলে নেওয়ার জন্য ইমামদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও আভিযোগ মামলাকারীরদের পক্ষের আইনজীবীর। লিখিত নির্দেশিকা ছাড়াই পুলিশকে দিয়ে এই পদক্ষেপ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন: ইমরান খান ও বুশরা বিবির কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ, পাকিস্তানকে চাপ দিতে রুবিওকে অনুরোধ মার্কিন আইপ্রণেতাদের
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি পর্বে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়  (Kalyan Banerjee)   ১৯৯৯ সালের হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট শব্দসীমা বা ডেসিবেল মেনে আজানের সময় মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতির কথা সেই নির্দেশে বলা হয়েছিল। ২০২৩ সালেও রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা ও পরবর্তী বিভিন্ন নির্দেশে নির্দিষ্ট শব্দসীমা মেনে মাইক ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করেছে এবং রাজ্যের অবস্থান কী, তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আপাতত মামলার শুনানি স্থগিত রেখে আগামী মঙ্গলবার ফের শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। মসজিদের মাইক নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা যে এ দিন আদালতের ভিতরে ‘চটি চাটা’ বনাম ‘বুট চাটা’র রাজনৈতিক-আইনি বাকযুদ্ধে রূপ নিল, তা নিয়েই এখন তীব্র চর্চা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মহলে।

দেখুন: হাইকোর্টে মাইক মামলায় উত্তেজনা, হস্তক্ষেপ ভারপ্রাপ্ত CJI-এর