• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 12 June, 2026

বাংলায় এবারে মার্শাল প্ল্যান

অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যের আর্থিক হাল ফেরাতে ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর ধারণার কথা সামনে এনেছেন।

মোটা অঙ্কের ঋণ, রাজস্ব ঘাটতি, শিল্পে বিনিয়োগের অভাব এবং কর্মসংস্থানের সংকট—এই চারটি সমস্যাকে সামনে রেখেই নতুন সরকার পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার রূপরেখা তৈরি করতে শুরু করেছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের অর্থদপ্তরের দায়িত্ব পাওয়া অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যের আর্থিক হাল ফেরাতে ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর ধারণার কথা সামনে এনেছেন। তাঁর মতে, একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ, কেন্দ্রীয় সহায়তা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সমন্বয়ে রাজ্যের অর্থনীতিকে আবারও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করানো সম্ভব।

‘মার্শাল প্ল্যান’ নামটির উৎস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপ। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ইউরোপের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব জর্জ সি মার্শাল একটি বৃহৎ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই পরিকল্পনার আওতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলিকে ঋণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অর্থ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে পশ্চিম জার্মানি-সহ ইউরোপের বহু দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ঘটাতে সক্ষম হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের বিস্তার সেই পরিকল্পনার বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্বপন দাশগুপ্তর মতে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও এক ধরনের পুনর্গঠনের দাবি রাখে। তাই রাজ্যের জন্য একটি বিশেষ ‘মার্শাল প্ল্যান’ প্রয়োজন। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে বাংলার বাস্তবতায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। এজন্য প্রয়োজন আর্থিক শৃঙ্খলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রভৃতি আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলির বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি তিনটি। প্রথমত, ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়ানো। বর্তমানে রাজ্যের বিপুল ব্যয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন, পেনশন এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে খরচ হয়। দ্বিতীয়ত, ঋণের সুদের বোঝা কমানো। রাজ্যের উপর প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, যার সুদ বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা।

এখন দেখার বিষয়, স্বপন দাশগুপ্তর প্রস্তাবিত এই ‘মার্শাল প্ল্যান’ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়। পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক বাস্তবায়নের সমন্বয় ঘটলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি নতুন গতি পেতে পারে বলেই আশা করছে সরকার।