শারদোৎসবের আর বাকি দেড় মাস। তার আগেই কলকাতা-সহ রাজ্যের দুর্গাপুজোর সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) । সোমবার নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথমবার তাঁর নেতৃত্বে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক হতে চলেছে। ফলে পুজো কমিটিগুলির সরকারি অনুদান-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত বছর পর্যন্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সাধারণত আগস্ট মাসেই দুর্গাপুজো সংক্রান্ত প্রশাসনিক বৈঠক করতেন। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুজো উদ্যোক্তা, পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে উৎসব পরিচালনার রূপরেখা তৈরি করা হত। সরকারি অনুদান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া বিভিন্ন সুবিধা নিয়েও আলোচনা হত।
আরও পড়ুন: ‘ফেসবুকেই থাকুন, রাস্তায় বেরোতে না পারেন, তার ব্যবস্থা করব’, মমতাকে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর
এ বছর মে মাসে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার দুর্গাপুজো নিয়ে কী নীতি গ্রহণ করবে। বিশেষ করে বিগত সরকারের চালু করা পুজো অনুদানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহল রয়েছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে। গত বছর রাজ্যের প্রায় ৪৫ হাজার দুর্গাপুজো কমিটিকে এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দিয়েছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকার।
এ বার সেই অনুদান প্রকল্প একইভাবে চালু থাকবে কি না, অনুদানের অঙ্কে পরিবর্তন হবে কি না অথবা নতুন কোনও নীতি ঘোষণা করা হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, আসন্ন বৈঠকেই এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।
শুধু অনুদান নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিশেষ ছাড়, দমকল-সহ বিভিন্ন সরকারি ফি সংক্রান্ত সুবিধা এবং উৎসবের সময় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড় সামলানো, অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতিতে পুলিশ, প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলির মধ্যে সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
শারদোৎসবের সঙ্গে রাজ্যের অর্থনীতি, পর্যটন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে রয়েছে। তাই ৭ সেপ্টেম্বরের নবান্নের বৈঠক থেকে দুর্গাপুজো নিয়ে নতুন সরকারের নীতি ও পরিকল্পনার স্পষ্ট ছবি উঠে আসবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।