কলকাতা হাইকোর্টের স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন বিচারপতি সুজয় পাল। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের সুপারিশ অনুযায়ী বিচারপতি সুজয় পালকে এদিন এই পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। এতদিন তিনি এই আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর স্থায়ী নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার অবসান হল।
আগের প্রধান বিচারপতির সুপ্রিম কোর্টে উন্নীত হওয়ার পর বিচারপতি সুজয় পাল কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানমের অবসরের পর পদটি শূন্য হয়। তারপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পান বিচারপতি সৌমেন সেন। পরবর্তীতে মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে সৌমেন সেনের নাম সুপারিশ করা হয়।
Advertisement
সেই সুপারিশ কার্যকর হওয়ার পর তিনি মেঘালয় চলে যান। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান বিচারপতি সুজয় পাল। সেই সময়কালে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা, জনস্বার্থ মামলা ও প্রশাসনিক বিষয়ের শুনানি পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি আদালতের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্ম ও বিচারবিভাগীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
Advertisement
গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের সুপারিশ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পরই বিচারপতি সুজয় পালের স্থায়ী নিয়োগে সিলমোহর পড়ে। এই নিয়োগে কলকাতা হাইকোর্টে স্থায়ী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হল বলে মনে করছেন আইনজীবী মহল। আদালতে মামলার জট কমানো এবং বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আনার ক্ষেত্রে এই স্থায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা।
বিচারপতি সুজয় পাল সাংবিধানিক আইন, পরিষেবা সংক্রান্ত মামলা ও প্রশাসনিক আইনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত। এর আগে তিনি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে যোগ দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন তিনি, যা আইনি ও সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। তাঁর স্থায়ী নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন কলকাতার আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। তাঁদের মতে, আদালতের প্রশাসনে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বিচারব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। ১৮৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা হাইকোর্ট দেশের প্রাচীনতম উচ্চ আদালতগুলির অন্যতম। বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে আগামী দিনে আদালতের কাজকর্ম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে এমনই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
Advertisement



