সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিলিগুড়িতে পৌঁছেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-র বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ফাইল খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য, অতীতে জিটিএ-তে কীভাবে কাজ হয়েছে, কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কোথায় অনিয়ম হয়েছে—সব কিছুই তদন্তের আওতায় আনা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ-তে দুর্নীতির অভিযোগ বহুবার উঠলেও তা নিয়ে কার্যকর তদন্ত হয়নি। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল যে, উন্নয়নের নামে পাহাড়ে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন উপেক্ষিত থেকেছে। এবার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই অভিযোগগুলির তদন্ত শুরু হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
Advertisement
এর আগেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক উত্তরকন্যায় গিয়ে একাধিক প্রকল্পের নথি পর্যালোচনা করেন। সেখানে বহু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে কাজ সম্পূর্ণ দেখানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে তাঁদের ব্ল্যাকলিস্ট করার নির্দেশও দেন তিনি। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে একদিন তিনি উত্তরকন্যায় বসে প্রশাসনিক কাজ পর্যবেক্ষণ করবেন।
Advertisement
মুখ্যমন্ত্রীর জিটিএ-র ফাইল খোলার মন্তব্যে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিজেপির দাবি, তাদের সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে এবং পাহাড়ের উন্নয়নের নামে কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
এদিন বৈঠকের পর সাংসদ রাজু বিস্তা ও বিধায়ক শংকর ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, জিটিএ-তে দুর্নীতির বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুংও সম্প্রতি জিটিএ-তে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। সব মিলিয়ে পাহাড়ের প্রশাসন ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
Advertisement



