আজ বিজয়া দশমী। ইছামতী নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে বুধবার কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শহর টাকিকে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক সীমান্তের সুরক্ষা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে বসিরহাট জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
চোরবাগানের দুর্ঘটনার পর প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে আরও পদক্ষেক করছে পুলিশ। জেলা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিক এবং বসিরহাজ জেলা পুলিশেরর যৌথ বৈঠকের পর নদীর পাড়, ঘাট এবং সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে নিরাপত্তার একাধিক স্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিসর্জন চলাকালীন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে যাতে কোনও নৌকা বা ব্যক্তি অন্য দেশে প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিএসএফ এবং বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে পুলিশ। প্রতিমাবাহী নৌকাগুলি যাতে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যেই থাকে, সে জন্য নদীতে দড়ি দিয়ে সীমানা নির্ধারিত করা হয়েছে।
ইছামতী নদীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টাকির রাজবাড়ি ঘাট এবং টাকি ও সংলগ্ন হাসনাবাদ এলাকার অন্যান্য ঘাট। ভিড় এবং আশপাশের রাস্তায় নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন। পকেটমারি, অনুমতি ছাড়া চলাচল এবং অন্যান্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকেও নজরদারি চালানো হবে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ প্রতিমা বিসর্জন দেখতে টাকির আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন। পুলিশের সূত্রে খবর, শহরের হোটেল ও অতিথিশালাগুলিতে আর কোনও ঘর খালি নেই।
দর্শনার্থীদের গাড়ি এবং প্রতিমাবাহী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে টাকি ও হাসনাবাদে বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরঞ্জন ঘাটের আশপাশে যানজট এড়াতে কয়েকটি রাস্তায় সাময়িক ভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: শক্তিপীঠ কামাখ্যায় মূর্তি ছাড়াই দেবী দুর্গার আরাধনা, পুজোর অনন্য রীতি
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল, সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং স্পিডবোট-সহ বিশেষ জলপুলিশ বাহিনীকে। পাশাপাশি, দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য ঘাটের কাছে মেডিক্যাল ক্যাম্প ও অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে টাকি বসিরহাট মিউনিসিপ্যালিটি সিটিজেনস ফোরাম। সংগঠনের তরফে আইনজীবী প্রণব সরকার জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাস্টবিন বসানো এবং মাইকের শব্দের মাত্রা যাতে অত্যধিক না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
টাকির বিসর্জনের মূল আকর্ষণ রাজবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা। ঐতিহ্য মেনে এবারও কোনও গাড়ি ব্যবহার না করে ২৪ জন বাহকের কাঁধে চেপে ঘাটে নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিমাকে। পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিমা বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবনে সম্পন্ন হবে বলেই আশাবাদী প্রশাসন।
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/WBXPWleJUWk?si=xFUU3X37kfwSmcix” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>